Wednesday, July 31, 2024

মানুষের মৃত্যু সন্ত্রাসীদের গুলিতে, বলছে পুলিশ

 

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়

রাজধানীতে বিক্ষোভকালে নিহত অন্তত ৬৪ জনের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী বা দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে।


পুলিশ বাদী হয়ে করা ৩৪টি মামলার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলাগুলোর এজাহারের শেষাংশে বর্ণনা প্রায় একই রকম। তাতে বলা হয়, বিএনপি ও জামায়াত এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে সন্ত্রাসী অথবা দুষ্কৃতকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করে। নিহতের ঘটনা ঘটেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে থাকা সন্ত্রাসী বা দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে।


নিহতের প্রত্যেকটি ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে স্বজনদের মনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হবে।

নূর মোহাম্মদ, সাবেক আইজিপি


পুলিশের মামলার বাইরে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। মামলার নথিতে বাদী হিসেবে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের নাম রয়েছে। এসব মামলায়ও ‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।


এর মধ্যে দুটি মামলার নথিতে উল্লেখ করা বাদীর নম্বরে ফোন করা হলে তাঁরা বলেন, মামলার বিষয়টি তাঁরা তেমন বোঝেন না। স্বজনদের মরদেহ নেওয়ার সময় তাঁদের বিভিন্ন কাগজে সই নেওয়া হয়।


কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সংঘাতে গত ১৬ জুলাই থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সরকার এ পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে।


এসব সংঘর্ষকালে কেবল ঘটনাস্থলে নয়; বাসার ভেতরে ও ছাদে থাকা কিছু মানুষও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। কদমতলীতে তিন বছরের শিশু আবদুল আহাদ নিহতের ঘটনায় ২৮ জুলাই থানায় মামলা করে পুলিশ। বাদী কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম জাহান-ই–আলম। 


মামলার এজাহারে পুলিশ বলেছে, আহাদ বাসার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল। গত ১৯ জুলাই বেলা দেড়টার দিকে সে গুলিবিদ্ধ হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।


যাত্রাবাড়ীতে ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারা যান। তিনিসহ সাতজনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৭ জুলাই মামলা করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. হোসেন জায়েদ। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

 

আহাদ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা সাত–আট হাজার দুষ্কৃতকারীকে। এজাহারে পুলিশ বলেছে, দুষ্কৃতকারীরা কদমতলী থানা আক্রমণ এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত, ককটেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ার) শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও শটগান ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ জানতে পারে, কোটাবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে থাকা দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে আবদুল আহাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।


মামলায় বলা হয়, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের আক্রমণ করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশে। আক্রমণকারীদের মধ্যেও তাঁরা ছিলেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের থেকে পাওয়া তথ্য, ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ এসব তথ্য জানতে পেরেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।


এই মামলার বাদী এসআই কে এম জাহান-ই-আলম বলেন, কে বা কারা আহাদকে গুলি করেছিল, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।


পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়াকে হত্যার ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা করেন তাঁর স্ত্রী মেরিনা আক্তার। এজাহারে বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা তাঁর স্বামীকে বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আঘাত করে মেরেছে।

 

২৮ মৃত্যুতে ১২ মামলা যাত্রাবাড়ীতে

ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৬, ১৭, ১৯, ২০ ও ২১ জুলাই। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু মানুষ মারা যান। সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ১৮, ১৯ ও ২০ জুলাই।


ঢাকায় দায়ের হওয়া যে ৩৭ মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ৬৭ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। এঁদের মধ্যে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে। ৫ জনের মৃত্যু মারধর ও আঘাতে। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানায়। এই থানার ১২টি মামলায় ২৮ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।


যাত্রাবাড়ীতে ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারা যান। তিনিসহ সাতজনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৭ জুলাই মামলা করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. হোসেন জায়েদ। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।


মামলাটিতে ঘটনার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা অন্যান্য মামলার মতোই। এতে দুজনকে পিটিয়ে ও পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার কথা বলা হয়েছে। বাদী এসআই মো. হোসেন জায়েদ বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের আড়ালে থাকা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাংবাদিক মেহেদীসহ অন্যরা নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের হাতে পুলিশ সদস্যরাও আহত ও নিহত হয়েছেন। তবে কারা গুলি করেছে, সেটি তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।


অবশ্য যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অন্তত দুজনের স্বজনেরা দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি অনেক গুলি করেছে। পুলিশই মামলা করেছে। ফলে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাঁরা সন্দিহান।


সাংবাদিক মেহেদী হাসানের ভাই জাহিদ আশিক ১৯ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার মাছের আড়তের কাছে গুলি করে তাঁর ভাইয়ের বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভাই হত্যার বিচার চান।


নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবি ও মামলার এজাহারের ভাষ্যের বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদ বলেন, নিহতের প্রত্যেকটি ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে স্বজনদের মনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হবে।


যাত্রাবাড়ী ছাড়াও মোহাম্মদপুর ও রামপুরা থানায় ২টি করে মামলা হয়। এতে ৫ জন করে ১০ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভাটারায় ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৩টি, কদমতলী থানায় ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৩টি, লালবাগ থানায় ৩ জনের মৃত্যুতে ২টি, বনানী থানায় ৩ জনের মৃত্যুতে ১টি, উত্তরা ও মিরপুর থানায় ২ জন করে মৃত্যুর ঘটনায় ২টি করে, ধানমন্ডি ও কাফরুলে ২ জন করে মৃত্যুর ঘটনায় ১টি করে এবং গুলশান, বাড্ডা ও হাতিরঝিলে ১ জন করে মৃত্যুর ঘটনায় ১টি করে মামলা হয়েছে।


তিনজনের নিহতের ঘটনায় পল্টন থানায় তিনটি মামলার বাদি হিসেবে তাঁদের স্বজনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিকশাচালক কামাল মিয়া। এই ঘটনায় মামলার বাদী কামালের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। 


তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, স্বামীর লাশ নেওয়ার জন্য তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পল্টন থানায় গিয়েছিলেন। অনেক কাগজে সইও করেছেন। মামলার বিষয়ে জানেন না।


পল্টন থানায় আরেকটি মামলা হয় ১৯ জুলাই গুলিতে ব্যবসায়ী রাব্বি আলম নিহত হওয়ার ঘটনায়। এতে বাদী করা হয় রাব্বি আলমের চাচা মো. সেলিমকে। তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, তিনিও মামলার বিষয়ে জানেন না। তবে তিনি লাশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন কাগজে সই করেছেন।


তবে পল্টন থানার ওসি মনির হোসেন মোল্লা বলেন, স্বজনেরাই মামলা করেছেন।


এই দুই মামলাতেও বলা হয়েছে, দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে ওই দুজন মারা গেছেন।


পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়াকে হত্যার ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা করেন তাঁর স্ত্রী মেরিনা আক্তার। এজাহারে বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা তাঁর স্বামীকে বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আঘাত করে মেরেছে।


অন্যদিকে পুলিশের নায়েক গিয়াস উদ্দিন হত্যার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় ২৪ জুলাই মামলা করেন তাঁর স্বজন ফজল প্রধান। মামলায় ১৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবীসহ ১৫ জন বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী রয়েছেন।


কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি, জামায়াতসহ বহু অনুপ্রবেশকারী ও দুষ্কৃতকারী ঢুকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে। তাদের গুলিতেই অনেকে মারা গেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন


পুলিশের গুলিতে ‘কেউ মারা যাননি’

এসব মামলার বিষয়ে পাঁচটি থানার ওসি ও দুটি মামলার বাদী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিবেদক কথা বলেছে। তাঁরা সবাই দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে কেউ মারা যাননি। কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের আড়ালে থাকা সন্ত্রাসী অথবা দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি, জামায়াতসহ বহু অনুপ্রবেশকারী ও দুষ্কৃতকারী ঢুকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে। তাদের গুলিতেই অনেকে মারা গেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহার হয়। তদন্তে কারা গুলি করেছিল, তা বেরিয়ে আসবে। খুনের দায়ে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।


১৮, ১৯ ও ২০ জুলাই স্বজন ও সাধারণ মানুষ যখন নিহতদের মরদেহ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন তাঁদের অন্তত ১৫ জনের সঙ্গে প্রতিবেদকদের কথা হয়। তাঁরা বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই ব্যাপকভাবে গুলি করছিল।


বিক্ষোভকালে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির গুলি করার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, কোথাও কোথাও পুলিশ খুব কাছ থেকে গুলি করছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার ভিডিওচিত্র নিয়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা রয়েছে। 


যদিও এই ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ছোড়া গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এক পর্যায়ে সাঈদের মৃত্যু হয়।


এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ২৫ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা সহিংসতার তিনটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনবহির্ভূতভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এতগুলো মানুষ যে হতাহত হলো, শুধু কি পুলিশের গুলিতে হয়েছে? আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন। কার গুলিতে কতজন নিহত-আহত হয়েছে, সবগুলো আমরা প্রকাশ করব।’


২১২ জন নিহতের মধ্যে প্রথম আলো ১৫০ জনের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখেছে, নিহত ব্যক্তির মধ্যে ৪৫ জন শিক্ষার্থী। বাকিদের বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষ অথবা ছোট চাকরিজীবী। পুলিশের সদস্য রয়েছেন মোট তিনজন। একজন আনসার সদস্য এবং চারজন সাংবাদিকও রয়েছেন এ তালিকায়।


সার্বিক বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, দেশে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষদের দমন করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকালে নিহতের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় এখন সরকারবিরোধীদের শায়েস্তা করা হবে।

Wednesday, July 17, 2024

Biden's departure is good for country and party: Chuck Schumer

 

    US Senate Majority Leader of the Democratic Party Chuck Schumer

US Senate Majority Leader Chuck Schumer said President Joe Biden's withdrawal from the re-election campaign would be good for the country and the party.

Chuck Schumer met with President Biden last Saturday. This influential Democratic leader told Biden this in that meeting. ABC News reported this news in a report on Wednesday.

The report also said that not only Chuck Schumer, but also Hakeem Jeffries, the leader of the Democratic Party of the US Congress, directly expressed the same opinion to Biden. A source related to their conversation told ABC News.

Chuck Schumer's office said in a statement after the news was published in the press, that the report is just idle speculation. Chuck Schumer delivered his caucus sentiment directly to President Biden on Saturday.

On the other hand, Hakeem Jefferies' office was contacted by Reuters. However, there was no immediate response.

Adam Schiff, a member of Congress from the Democratic Party, called on Biden to withdraw from the election yesterday. About this, 20 members of the Democratic Party in Congress publicly asked Biden to step down.

The presidential election will be held in the United States in November. Current President Joe Biden is running from the Democratic Party. Former President Donald Trump is running from the Republican Party.

On June 27, Biden and Trump faced off in a debate. The 81-year-old Biden was very slan. George Biden could not answer Trump's questions emphatically. After this, the demand of withdrawing Biden's candidacy started to rise from inside and outside his own party.

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকে আছে শত শত যানবাহন

 

    রাজধানীর শনির আখড়ার আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষের কারণে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন

সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।


রাজধানীর শনির আখড়ায় বুধবার দিনভর ও রাতে আন্দোলনকারী-পুলিশের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্থানে আগুন দেওয়া হয়। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায়ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় শত শত মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে আছে। শনির আখড়ার সংঘর্ষের কারণে এই মহাসড়ক দিয়ে কোনো গাড়ি রাজধানীতে ঢুকতে পারছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই যানবাহনগুলোর যাত্রী ও চালকেরা।


নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী হিমাচল পরিবহনের যাত্রী মো. রাব্বি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, সোমবার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বুধবার রাত আটটার দিকে এই গাড়িতে করে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু দুই ঘণ্টা যাবৎ সাইনবোর্ডে আটকে আছে তাঁর বাস।


চট্টগ্রাম থেকে বিকেল ৫টার দিকে রওনা দিয়ে রাত ১০টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় আসেন আর কে এন্টারপ্রাইজের কাভার্ড ভ্যানের চালক রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, তাঁর গাড়িটি মতিঝিল যাবে। দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন। গাড়িতে মালামাল রয়েছে। তাই রাস্তায় যত ঝামেলা থাকুক না কেন, ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।


আনোয়ার সিমেন্ট কোম্পানির গাড়ির চালক নাজির হোসেন বলেন, শনির আখড়ায় গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোনো গাড়ি সামনের দিকে যেতে পারছে না। কখন পুরান ঢাকার কদমতলীতে পৌঁছাবেন, তা-ও জানেন না। ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনায় আতঙ্ক তো আছেই।


সকাল থেকে সাইনবোর্ড এলাকায় পেয়ারা বিক্রি করছেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শনির আখড়ার দিকে যান। সাইনবোর্ডে সকালে ও রাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যানজট ছাড়া এখানে কোনো ঝামেলা নেই। মহাসড়কের নিরাপত্তায় টহল পুলিশ রয়েছে।


সাইনবোর্ড এলাকায় দায়িত্বরত ফতুল্লা মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সামিউল বলেন, শনির আখড়ার সংঘর্ষের কারণে যানবাহন সামনের দিকে যেতে পারছে না। এ কারণে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তবে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি ভালো আছে।

শনির আখড়ায় সড়কে অন্তত ২০ জায়গায় আগুন, মধ্যরাতেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান

    রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরানো হয়। বুধবার সন্ধ্যায়
 

রাজধানীর শনির আখড়া এলাকার সহিংস পরিস্থিতি গভীর রাতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার দিবাগত রাতেও সড়কে আন্দোলনকারীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। এতে এদিন সকাল ১০টার পর থেকে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।


রাতে শনির আখড়ার কাজলা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ২০টি জায়গায় আগুন ধরানো হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ও ইট ছড়িয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।


রাত সাড়ে ১২টার দিকে শনির আখড়ার কাজলা থেকে রায়েরবাগ হয়ে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। অপরদিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। 


কিছুক্ষণ পরপর আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে থাকেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ যখনই আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়, তখন তাঁরা সড়কের গলিতে দৌড়ে আশ্রয় নেন।


    মধ্যরাতে রায়েরবাগ এলাকায় সড়কে আগুন ধরানো হয়


সন্ধ্যার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে এই অবস্থা চলছিল। এ সময়ে শুধু অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া ওই সড়কে আর কোনো যানবাহন চলছিল না। তাতে ঢাকায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অনেকটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।


গভীর রাতে রায়েরবাগে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক শাহাবুদ্দিন মাঝির সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বহু দিন তিনি শনির আখড়া-রায়েরবাগ এলাকায় রিকশা চালান। কিন্তু এমন পরিস্থিতি কোনো দিন দেখেননি। সকাল থেকে এ রাস্তা দিয়ে কোনো গাড়ি চলছে না। আর সন্ধ্যার পর সড়কে কেবল আগুন।


সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে শরিক হয়ে শনির আখড়ার দনিয়া কলেজের শিক্ষার্থীসহ যাত্রাবাড়ীর স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। তখন থেকে দেশের ব্যস্ত এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দিনভর এমন অবস্থা চলায় সড়কে যানজট দেখা যায়। সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের শটগানের গুলিতে আহত ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তখন থেকে বদলে যেতে থাকে শনির আখড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কের চিত্র। একপর্যায়ে মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের কাজলা অংশের টোল প্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।


   রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন দেওয়া। বুধবার সন্ধ্যার পর

পরে ছত্রভঙ্গ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধাওয়া দিলে আন্দোলনকারীরা পিছু হটেন। আবার তাঁরা এক জোট হয়ে পাল্টা ধাওয়া দিতে থাকেন। একপর্যায়ে শনির আখড়ার কাজলা থেকে রায়েরবাগ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের দোকানপাট ভয়ে বন্ধ করে দেন দোকানদারেরা।


এই পরিস্থিতি চলার মধ্যে রাত ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পাশাপাশি সেখানে এপিবিএনের অনেক সদস্য ছিলেন।


এ সময় যাত্রাবাড়ী থানার অদূরে মাছের আড়তের সামনের সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। কিছুক্ষণ পরপর পুলিশের শটগান থেকে গুলি ছোড়ার আওয়াজ শোনা যায়। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে উপস্থিত অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য এই প্রতিবেদককে জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সন্ধ্যার পর থেকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়ে আছেন কাজলা এলাকায়।


রাত সাড়ে ৯টার পর বিকল্প সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজলা অংশে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক আন্দোলনকারী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগের হাতে লাঠি। সড়কের শনির আখড়া ও কাজলার মধ্যবর্তী স্থানে অন্তত পাঁচটি জায়গায় আগুন জ্বলছে। কাজলা থেকে মূল সড়ক ধরে শনির আখড়া অংশে যাওয়ার সময় দেখা যায়, সড়কে ছড়িয়ে রয়েছে ইটপাটকেল, গাছের গুঁড়ি। শনির আখড়ার সড়ক ধরে রায়েরবাগ পর্যন্ত একই চিত্র। সড়কের দুই পাশে আগুন জ্বলছে। সেখানে অবস্থান নিয়ে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।


রাত সাড়ে ১১টায় রায়েরবাগ উড়াল পদচারী–সেতুর নিচে একদল আন্দোলনকারীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর কিছুটা দূরেও সড়কে আগুন জ্বলছিল।


সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল মহাসড়কের ওপর আগুন ধরানো হয়নি, শনির আখড়া থেকে রায়েরবাগের গলির সড়কেও আগুন ধরানো হয়। এসব সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে সকাল থেকে সাইনবোর্ড থেকে মানুষজন হেঁটে হেঁটে যাত্রাবাড়ীতে পৌঁছান।


তাসলিমা খাতুন নামের এক নারী রাত ১২টার দিকে সাইনবোর্ড থেকে হেঁটে যাত্রাবাড়ীতে পৌঁছান। তিনি বলেন, ‘আমি এসেছি কুমিল্লা থেকে। সাইনবোর্ডে নামিয়ে দেওয়ার পর কোনো গাড়ি পাইনি। অনেকক্ষণ সেখানে বসে ছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে মধ্যরাতে হেঁটে যাত্রাবাড়ী যাচ্ছি।’


আটকে আছে শত শত গাড়ি

এই সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই যানবাহনগুলোর যাত্রী ও চালকেরা।


নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী হিমাচল পরিবহনের যাত্রী মো. রাব্বি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, সোমবার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বুধবার রাত আটটার দিকে এই গাড়িতে করে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু দুই ঘণ্টা যাবৎ সাইনবোর্ডে আটকে আছে তাঁর বাস।


চট্টগ্রাম থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে রওনা দিয়ে রাত ১০টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় আসেন আর কে এন্টারপ্রাইজের কাভার্ড ভ্যানের চালক রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, তাঁর গাড়িটি মতিঝিল যাবে। দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন। গাড়িতে মালামাল রয়েছে। তাই রাস্তায় যত ঝামেলা থাকুক না কেন, ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।


আনোয়ার সিমেন্ট কোম্পানির গাড়িরচালক নাজির হোসেন বলেন, শনির আখড়ায় গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোনো গাড়ি সামনের দিকে যেতে পারছে না। কখন পুরান ঢাকার কদমতলীতে পৌঁছাবেন, তা-ও জানেন না। ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনায় আতঙ্ক তো আছেই।

সারা দেশে আজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধের ঘোষণা

 

    কোটা সংস্কারের দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায়

সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার কমপ্লিট শাটডাউন (সর্বাত্মক অবরোধ) কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। এই কর্মসূচি চলাকালে শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা৷


‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি-র‍্যাব ও সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে’ এই কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


জরুরি সেবার আওতায় গণমাধ্যমের গাড়ি ও সংবাদপত্র পরিবহনের গাড়ি বাধাহীনভাবে চলতে পারবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।


গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।


আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা ও কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করছি৷ শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না৷’


সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ৷ তিনি লেখেন, ‘আমাদের অভিভাবকদের বলছি, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত-নির্বিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণের।’


কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম প্রথম আলোকে বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন বলতে তাঁরা ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ বুঝিয়েছেন৷


সারজিস আলম আরও বলেন, গণমাধ্যমের গাড়ি ও সংবাদপত্র পরিবহনের গাড়ি জরুরি সেবা হিসেবে  অবরোধের আওতা থেকে মুক্ত থাকবে৷ অর্থাৎ এগুলো চলতে পারবে৷


গতকাল দিনভর উত্তপ্ত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে মোড়ে মোড়ে অবস্থান ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। দুপুর থেকে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য সাঁজোয়া যান নিয়ে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত কফিনমিছিল শুরু করামাত্র হামলা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 


এ সময় দুই পাশ থেকে সম্মিলিত আক্রমণের মধ্যে পড়ে আহত হন কয়েকজন নারীসহ অন্তত ২০ শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন ১০ জন সাংবাদিকও। এর বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলায় আহত হয়ে গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন আরও ৩৫ জন।


পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনেও রাজধানীসহ দেশের অন্তত ১০টি জেলায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অন্তত ১০টি জায়গায় সড়ক ও মহাসড়ক এবং দুই জায়গায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

Tuesday, July 16, 2024

Gaza rubble removal will take 15 years: UN

 

    A building in Gaza City destroyed by Israeli strikes

Gaza has been reduced to rubble after more than 9 months of war. UNRWA, the United Nations Relief and Works Agency for Palestine, said it would take 15 years to remove the rubble. On Monday, UNRWA said that about four million tons of rubble must be removed from Gaza.

The agency gave the figures citing an assessment by the United Nations Environment Program (UNEP).

UNRWA said, "These tons of debris have become a mortal threat to the residents of the Gaza Strip. Because, those debris may contain unexploded weapons and harmful substances.

"All the investment in human development in Gaza in the last 40 years or so has gone down the drain...we're back to the 1980s, so to speak."

Abdullah Al-Dardari, Director of UNDP's Regional Bureau for Arab Countries

The agency also said hundreds of trucks and more than 500 million US dollars are needed to remove the debris from Gaza.

According to UNEP, some of the debris contained the highly toxic mineral asbestos; Which causes lung diseases including cancer. Many bodies are buried under the mountain-like rubble of buildings that collapsed in the attack. They rot and spread various pollution.

Earlier, after the Israel-Hamas war in Gaza in 2014, about 2.4 million tons of debris had to be removed.

UNEP has calculated that the amount of debris created by the various wars in Gaza since 2008, this war has created 13 times more debris than those debris.

Israel's military radio quoted military officials as saying last month that Israel has so far dropped about 50,000 bombs on Gaza since the war began on October 7 last year. Among those bombs, two to three thousand bombs are lying unexploded.

According to a statistic provided by the United Nations Development Program (UNDP) last May, it will take 2040 years to rebuild the houses destroyed in the war in Gaza. It will cost 4 thousand to 5 thousand US dollars.

Abdullah al-Dardari, director of UNDP's regional bureau for Arab countries, said at the time, "We haven't seen anything like this since 1945."

The extent of the devastation in Gaza sets the Palestinian Valley back nearly 40 years.

Al-Dardari said, "All the investment in human development in Gaza in the last 40 years or so has gone down the drain...we're back to the 1980s, so to speak."

Monday, July 15, 2024

সিলেট সীমান্তে গুলিতে নিহত দুই যুববকের লাশ ২৬ ঘণ্টা পর হস্তান্তর

 

    সিলেট জেলার মানচিত্র

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিতে দুই যুবক নিহত হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর লাশ ফেরত আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত আটটার পর উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাঁদের লাশ আনা হয়।


নিহত দুজন হলেন উপজেলার কালীবাড়ি গ্রামের আলী হোসেন (৩০) ও কাওসার আহমদ (৩২)। গতকাল রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছ থেকে লাশগুলো বুঝে‌ নেন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বি‌জি‌বির কালাইরাগ ক‌্যাম্পের সদস্যরা।


এর আগে গত ‌রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোম্পানীগঞ্জে কালাইরাগ ভারত সীমান্ত এলাকার ১২৫৩ পিলারের পাশে ‘ভারতীয় খা‌সিয়াদের’ গুলিতে আলী ও কাওসার নিহত হন বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনার পর থেকে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার তৎপরতা চালায় বি‌জি‌বি। গতকাল বিএসএফের সঙ্গে বি‌জি‌বির কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠক শেষে রাত আটটার পর লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা কলাইরাগ সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমান। পরে রাতে বি‌জি‌বির কাছ থেকে পুলিশের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়।


উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউপির চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তিদের বা‌ড়ি সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় মাঝেমধ্যে কাঠ আনতে ভারত সীমান্তের অভ‌্যন্তরে প্রবেশ করতেন তাঁরা। রোববারও কাঠ আনতে দেশটির সীমান্তে প্রবেশ করেছিলেন।


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত ম‌নিরুজ্জামান খান বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ দেশে এসেছে। ময়নাতদন্তের জন‌্য মরদেহ সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...