Tuesday, April 30, 2024

Teenager dies of knife attack in London

 

    The knife attack took place in the Hainault area of ​​north-east London on Tuesday.

A teenager (14) has died after being injured in Tuesday's knife attack in north-east London, UK.

The injured teenager was rescued and taken to the hospital. He later died there. Four others were injured in the attack. Two of them are policemen. Police have arrested a 36-year-old man with a knife as the suspected attacker.

The names of the dead teenager and the arrested person have not been released. Police said a car crashed into a house in the Hainault area shortly before 7am local time yesterday. The police received information that people were victims of knife attacks there.

Police later learned that the suspect also attacked other people and two police officers. London Metropolitan Police Assistant Commissioner Louisa Rolfe said the investigation was ongoing. It is being investigated whether the arrested person has any previous involvement in the crime.

দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে ধুঁকছে বিডিবিএল

 

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)

ছিল না দক্ষ ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক বিবেচনায় খোলা হয়েছে শাখা, দেওয়া হয়েছে ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংক ছিল নির্বিকার ভূমিকায়।

দেড় দশক আগে দুটি বিপর্যস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থাকে (বিএসআরএস) একীভূত করে গঠন করা হয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।


২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি এটি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত করার এটি একটি সফল উদাহরণ হলেও নতুন ব্যাংকটি আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। বছরের পর বছর ধুঁকে ধুঁকে চলছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিডিবিএল।


বিএসবি ও বিএসআরএসের পুরোনো খেলাপি ঋণের বোঝা চেপে বসেছিল বিডিবিএলের ওপর। সঙ্গে যোগ হয় খেলাপি হয়ে পড়া নতুন ঋণ। ফলাফল, খেলাপি ঋণের চাপে নুয়ে পড়া ব্যাংকটি কখনোই ব্যবসাসফল হতে পারেনি। ব্যাংকিং ব্যবসার পরিবর্তে এখন শেয়ার ব্যবসা ও ভবনভাড়া বাবদ পাওয়া আয়ের ওপর নির্ভর করেই কোনোমতে টিকে আছে এটি।


আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেও বড় লোকসান দিয়েছে ব্যাংকটি। বিডিবিএলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক থাকার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।


সোনালী ব্যাংক যদি নিজেদের প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিডিবিএলের উন্নতি ঘটাতে চায়, তাহলে সেটা সম্ভব। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা সম্ভব হবে না। ব্যাংক সফল করতে সদিচ্ছা কতটা আছে, এটা জরুরি।

মোহাম্মদ নূরুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান, এবিবি

এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিডিবিএল। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও বিডিবিএলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মিললেই ব্যাংক দুটি একীভূত হওয়ার বাকি প্রক্রিয়া শুরু করবে।


সব দিক বিবেচনা না করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত করার সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে কতটা ভুল আর হিতে বিপরীত হতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ বিডিবিএল। একীভূত করেও এই ব্যাংকে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়োগ দেওয়া হয়নি।


পাশাপাশি চলেছে রাজনৈতিক বিবেচনায় শাখা খোলা ও ঋণ দেওয়া। এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও তদারকি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক ছিল অনেকটা নির্বিকার ভূমিকায়। ফলে ব্যাংকটির এক-তৃতীয়াংশ ঋণই এখন খেলাপি।


বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিবুর রহমান গাজী ব্যাংকের এমন পরিণতির জন্য বেশ কিছু কারণকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, নতুনভাবে বিডিবিএল গঠন করা হলেও কর্মকর্তারা ছিলেন আগের, যাঁদের বাণিজ্যিক ঋণ দেওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।


এর ফলে হঠাৎ অনেক নতুন ঋণ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ যাচাই–বাছাই করে গ্রাহক নির্বাচন না করায় এসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে শাখা খোলায় এগুলো ব্যবসাসফল হয়নি। এসব কারণে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ অন্যদের তুলনায় বেশি। তবে গত মার্চে খেলাপি ঋণ ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে।


হাবিবুর রহমান গাজী আরও বলেন, ‘আমাদের মূলধন–ঘাটতি নেই, অন্য সূচকগুলোও ঠিক আছে। ব্যাংকের অনেক সম্পদ আছে। এখন সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে একীভূত হওয়ার। সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হলে এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হবে বলে আশা করি।’


খেলাপি ঋণে ডুবে আছে বিডিবিএল

২০১৮ সালে বিডিবিএলে মোট আমানত ছিল ২ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা, যা ২০২০ সালে কমে হয় ২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। ২০২১ সালে অবশ্য আমানত আবার কিছুটা বেড়ে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২২ সালে তা আরও বেড়ে ২ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায় ওঠে। ২০২৩ সালে আমানত আরেকটু বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার কোটি টাকায়।


অন্যদিকে ২০১৮ সালে ব্যাংকটির দেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১২৯ কোটি টাকায়। ২০২১ সালে ঋণ আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।


২০২২ সালে ঋণ অল্প বাড়ে, দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকায়। আর ২০২৩ সালে ঋণ অবশ্য কিছুটা কমে, নেমে আসে ২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায়।


তবে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের হার সব সময় উঁচুতে ছিল। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির মোট ঋণের ৪৬ শতাংশ বা ৮৮৯ কোটি টাকা ছিল খেলাপি। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮২ কোটি টাকায়, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৪২ শতাংশ।


তবে গত মার্চে খেলাপি ঋণের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। খেলাপি ঋণের এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকটি কমবেশি চেষ্টা করলেও খুব একটা সফল হতে পারছে না।


দেশজুড়ে ২০১৮ সালে বিডিবিএলের শাখা ছিল ৪৪টি, যা এখন বেড়ে হয়েছে ৫০টি।


বিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটি ২০২২ সালে ঋণের সুদ আদায় ও আমানতের সুদ পরিশোধের পর যে টাকা আয় করেছে, তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ এসেছে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ থেকে। ওই বছরে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড থেকে নিট আয় হয়েছিল ৩৯ কোটি টাকা আর শেয়ারবাজার থেকে আয় হয় ৭৫ কোটি টাকা।


পুঁজিবাজারে ব্যবসা করার জন্য ব্যাংকটির বিডিবিএল সিকিউরিটিজ এবং বিডিবিএল ইনভেস্টমেন্ট নামে পৃথক দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিডিবিএল।


ঢাকার মতিঝিল ও কারওয়ান বাজার এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় বিডিবিএলের বহুতল ভবন রয়েছে। ২০২২ সালে ভবনভাড়া থেকে বিডিবিএলের আয় ছিল ২০ কোটি টাকার মতো। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীতে মোট ২৭ বিঘা জমি রয়েছে।


বিডিবিএলের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দিয়ে আগ্রাসীভাবে ব্যাংকিং করার কারণেই মূলত প্রতিষ্ঠানটি দুর্দশায় পড়েছে। এটা বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও কোনো ভূমিকা নেয়নি।


যাদের কাছে আটকা ব্যাংক

বিডিবিএলের প্রায় ৯০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে ৬০০ কোটি টাকাই আটকে আছে শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছে। এর মধ্যে দু-তিনজন গ্রাহককে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে একীভূত হওয়া ব্যাংকটি। বাকিদের ঋণ দেওয়া হয় বিডিবিএল গঠনের পর। ব্যাংকটি এখন এসব ঋণ আদায় করতে পারছে না।


ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে দেওয়া ঋণই সবচেয়ে বেশি খেলাপি হয়েছে। শীর্ষ খেলাপিদের মধ্যে চট্টগ্রামভিত্তিক মোস্তফা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এম এম ভেজিটেবল অয়েলের কাছে ব্যাংকটির পাওনা ১১০ কোটি টাকা।


এ ছাড়া তাল্লু স্পিনিংয়ের খেলাপি ঋণ ৬৯ কোটি টাকা, আর আর স্পিনিং অ্যান্ড কটন মিলসের খেলাপি ঋণ ৬৫ কোটি টাকা এবং ডেলটা স্পিনার্স ও বিআর স্পিনিংয়ের খেলাপি ৪৭ কোটি টাকা করে। এ ছাড়া মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণ ৩৮ কোটি টাকা ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলের খেলাপি ঋণ ৩০ কোটি টাকা।


বিডিবিএলের যাত্রা শুরুর কিছুদিন পর এমডি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। এ পদে তিনি পাঁচ বছর ছিলেন। খেলাপি হওয়া বেশির ভাগ ঋণই তাঁর আমলে বিতরণ করা হয়।


অবসরের পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। তাঁর বক্তব্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, একটি ব্যাংক সফল হওয়ার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারত্ব প্রয়োজন, তা বিডিবিএলে ছিল না। সে কারণে একীভূত হওয়ার পরও এটি ভালো করতে পারেনি।


এখন সোনালী ব্যাংক যদি নিজেদের প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিডিবিএলের উন্নতি ঘটাতে চায়, তাহলে সেটা সম্ভব। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা সম্ভব হবে না। ব্যাংক সফল করতে সদিচ্ছা কতটা আছে, এটা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রবিক্ষোভ যেভাবে ফিলিস্তিনিদের দিকে হাওয়া ঘুরিয়ে দিচ্ছে

 

    গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে নজিরবিহীন বিক্ষোভ চলছে। ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শিবির গড়ে তুলেছেন তাঁদের ক্যাম্পাসগুলোতে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না।


এ পর্যন্ত সারা যুক্তরাষ্ট্রে নয় শর বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এরপরও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাঁবু টানিয়ে বসে পড়েছেন শিক্ষার্থী।


বরং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ নানাভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ দাঙ্গা পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার উসকানি দিচ্ছে।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চাইছেন গাজার ওপর ইসরায়েল হামলা বন্ধ করুক। ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বছরে ইসরায়েলকে তিন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।


আন্দোলনকারীদের মতে, এসব সহায়তা বন্ধের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইসরায়েলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক গবেষণা, শিক্ষা কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে।


বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলকে কারিগরি, আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেয়, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হবে।


এই আন্দোলনে নানা জাতি, বর্ণ ও ধর্মের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এটা কোনো সুনির্দিষ্ট একটি দেশ, জাতি বা ধর্মের অনুসারীরা করছেন না। গণতন্ত্রকামী, উদারপন্থী, মধ্যপন্থী—সবাই মিলেই এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। মূলত কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে।


যুক্তরাষ্ট্রের এই শিক্ষার্থী আন্দোলন পশ্চিমের সমাজে ফিলিস্তিন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলের পরিষ্কার বার্তা বহন করে। এখানে শাসকগোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের পক্ষে থাকলেও সাধারণ নাগরিক সমাজ এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বছরের পর বছর অর্থ ও সামরিক সমায়তা দিয়ে সংঘাত জিইয়ে রাখার পক্ষে না যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ।


ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস টিভি নেটওয়ার্কের জরিপকে উদ্ধৃত করে আল–জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির ৩২ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলকে সহায়তা করার পক্ষে।


গত বছরের অক্টোবরে ৪৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ইসরায়েলকে সহায়তা করার পক্ষে ছিলেন। ফলে দেখাই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে দিন দিন ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বিশেষ করে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন হ্রাস পাচ্ছে।


একই সঙ্গে প্রজন্মগত পার্থক্যও এই আন্দোলন সামনে নিয়ে এসেছে। তরুণেরাই এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফিলিস্তিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণেরা বয়স্কদের থেকে অনেক বেশি সহানুভূতিশীল।


যুক্তরাষ্ট্রের একদম ঘরের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী এত বড় বিক্ষোভ গড়ে ওঠা কিছুটা অবাক করার মতোই বিষয় বটে। অকল্পনীয়ও বলা চলে। এটা ইসরায়েলের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হতে পারে ভবিষ্যতে। কারণ, ইসরায়েল টিকেই আছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রেই যদি জনমত ঘুরে যায়, তবে ইসরায়েলের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে।


সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি সম্ভবত। এবং আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি বা শুরুতেই দমিয়ে দিতে পারেনি।


ইসরায়েলপন্থী শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়েছিল যদিও। কিন্তু খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। পুরো আন্দোলনের মাঠ ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের দখলে চলে গেছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।


এই আন্দোলন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধীরা সুযোগ নিতে ভুল করছে না। আন্দোলন শুরু হওয়ার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন গণতন্ত্রের সবক শুনতে হয়। বোঝাই যাচ্ছে বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র দিন দিন পায়ের নিচে জমি হারাচ্ছে।


একটি জিনিস বলতেই হবে, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েই ফিলিস্তিনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়। এই আন্দোলনের কারণে অনেকের সনদ বাতিল হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরে বহিষ্কৃত হতে পারেন। আর্থিক জরিমানার কবলে পড়তে পারেন।


ইতিমধ্যেই অনেকে নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব বিবেচনায় নিয়েই তাঁরা আন্দোলন সৃষ্টি করেছেন ও যোগ দিয়েছেন।


এই আন্দোলনের কারণে সহানুভূতির পাল্লা এখন ফিলিস্তিনের দিকে ঘুরে গেছে অনেকটাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসিদের হাতে অত্যাচারিত হওয়ায় এত দিন ইসরায়েল যে সহানুভূতি পেত, এখন সেই সহানুভূতি ফিলিস্তিনের দিকে চলে গেছে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনিরা এ নিয়ে প্রচার ও কাজ করছিল।


ফিলিস্তিনিদের মূল যুক্তি ছিল, ইসরায়েল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নির্যাতিত হওয়ার সহানুভূতি নিয়ে একই কাজ ফিলিস্তিনিদের ওপর করছে, যা নাৎসিরা করেছিল। বিশেষ করে চলমান গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের ধ্বংসলীলা ফিলিস্তিনিদের যুক্তি ও প্রচারণাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনজিও অ্যাকশন ফর হিউম্যানিটির জরিপ অনুসারে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা পরিচালনা করছে। ইসরায়েলের গণমাধ্যম হারেৎস জানিয়েছে, গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আটকের পরোয়ানা জারি করতে পারে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত।


শুধু মানবিক সহানুভূতিই নয় বৈশ্বিক বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতিও এই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। সারা বিশ্বেই মূল্যস্ফীতি, সামাজিক সুযোগ-সুবিধা হ্রাস পাওয়া, বেকারত্ব বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।


এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করা ও বিভিন্ন দেশকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে।


এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই তরুণ প্রজন্ম ইসলামবিদ্বেষ, পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাসের সমাজ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ ধারায় বিভাজিত। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে মুসলিম ও অমুসলিম বিভাজন।


এত বড় দুটি বিভাজনরেখা নিয়ে কোনো সমাজ বেশি দিন টিকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অস্তিত্বের জন্য হলেও সমাজ থেকে এই বিভাজনরেখা মুছে দিতে হবে। তরুণেরা সেই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।


এখন দেখার  বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু নিজেদের পরিশোধিত করে শুধরে নিতে পারে। এটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। রাতারাতি বা হুট করে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের পরিবর্তন হবে না। তবে একটি নতুন ধারার সূচনা হতে পারে।


এই আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পরবর্তী নির্বাচনে পরিলক্ষিত হতে পারে। তরুণ ভোটাররা নতুন যুক্তরাষ্ট্র নির্মাণের পথ রচনা করতে পারেন সামনের নির্বাচনে। তরুণদের মনোভাব জো বাইডেনের পুনর্নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। বাইডেন হারলেই তো ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিরে আসবেন; ডেমোক্র্যাটদের এই যুক্তি ভোটারদের প্রভাবিত না করতে পারে।


ঐতিহাসিকভাবেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা ইসরায়েলকে সমর্থন করে এসেছে। তাই বাইডেন হেরে গেলে বা ট্রাম্প জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো হেরফের হবে না। আবার তরুণদের এই বিক্ষোভ, হতাশা বা আন্দোলন তৃতীয় কোনো পক্ষকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারবে না।


তবে যে–ই ক্ষমতায় আসুক সামনের নির্বাচনে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের ভূমিকা রাখতে পারে এই তরুণেরা। আজকে আন্দোলনের মাঠে থাকা শিক্ষার্থীরাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কমবেশি প্রতিটি যুদ্ধেই হার মানা যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলকে সহায়তার নামে ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের ময়দান থেকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

মন্ত্রী–এমপিদের স্বজনেরা এবারও সরলেন না

 


  • দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর স্বজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
  • সংসদ সদস্যদের সন্তান, ভাই, শ্যালকেরাও প্রার্থী।
  • ১৫৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৪৬৬ জন।


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দফায় দফায় নির্দেশ, হুঁশিয়ারি—কোনো কিছুতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের থামানো যাচ্ছে না।


প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অন্তত ১৪ জনের নিকটাত্মীয় ও স্বজনেরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।


গতকাল মঙ্গলবার ছিল দ্বিতীয় পর্বের ভোটের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২১ মে। এই পর্বে ১৫৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৪৬৬ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী হয়েছে খুলনা বিভাগে। এই বিভাগে ৮৩ জন। এর পরেই রংপুর বিভাগে প্রার্থী ৬৮ জন।


এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৬৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৬২ জন,বরিশাল বিভাগে ৫১ জন, ময়মনিসংহ বিভাগে ৪০ জন ও সিলেট বিভাগে ৩৪ জন। দ্বিতীয় পর্বেও আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ


এর বাইরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ১৭ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন।


এদিকে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের স্বজনদের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা উপেক্ষিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবনে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


স্বজনদের যাঁরা ভোটের মাঠে নেমেছেন, তাঁদের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রথম ধাপে শুধু নাটোরের একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। নাটোরের সিংড়ায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠায় ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন লুৎফুল হাবিব। তিনি তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের শ্যালক।


এ ছাড়া স্বজনদের আর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। উপজেলার প্রথম দফার ভোটের জন্য আওয়ামী লীগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের ৫০ জনের মতো স্বজন প্রার্থী হয়েছেন।


আর গতকাল দ্বিতীয় পর্বের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সংসদ সদস্যদের অন্তত ১৪ জনের স্বজনেরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। দলের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ অমান্য করে স্বজনদের যাঁরা ভোটে থাকছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দলের নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি হয়। ভিন্নমতও রয়েছে দলটিতে।


৩ মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়

দ্বিতীয় পর্বের ভোটে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর স্বজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভোটের মাঠে থাকা এই স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা নজরুল মজিদ মাহমুদ চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের ছোট ভাই।


রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী সেখানকার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হাকিম। তিনি রেলমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-২ আসনের (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী) সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমের আপন চাচাতো ভাই।


গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলীর বড় ভাই জামিল হাসান (দুর্জয়) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।


সন্তান, ভাই, শ্যালক প্রার্থী

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ (জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) এবং ছোট ভাই ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ (জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি) প্রার্থী হয়েছেন।


এ বিষয়ে নুরুজ্জামান আহমেদের ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর ভাইয়ের বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন। তবে সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন করলে তিনি বিষয়বস্তু জানার পর ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন রেখে দেন।


সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আ হ ম মুস্তফা কামালের ভাই গোলাম সারওয়ার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায়।


সংসদ সদস্যদের স্বজনদের মধ্যে আরও আছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ভাই মো. নজরুল ইসলাম, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু জাহিরের শ্যালক আক্তারুজ্জামান, পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পাবনা-২ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেনের বড় ছেলে গোলাম হাসনায়েন, চুয়াডাঙ্গা সদরে সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ভাতিজা নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। তাঁরা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।


এ ছাড়া বগুড়া-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদীর বাবা সিরাজুল ইসলাম খান চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।


লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরীর ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ (রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ছেলে সাইফুল আলম ওরফে দিপু হয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী।


দ্বিতীয় ধাপে এখন প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২ মে। সব মিলিয়ে ৪৮০টির মতো উপজেলায় চার ধাপে নির্বাচন হবে। ৮ মে প্রথম পর্বে ১৫০টি উপজেলার ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন শুরু হচ্ছে।

Columbia University is expelling students protesting for Palestine

 

    A pro-Palestinian protest is going on in the campus. April 29, on the Columbia University campus in New York

Pro-Palestinian protests have intensified on university campuses across the United States. Hundreds of protesters were arrested. The authorities of New York's Columbia University are expelling the protesting students for not leaving the campus within the stipulated time.

A week or two ago, pro-Palestinian protests started from this university. Later it spread throughout the United States. A protest was held in the university campus by making a tent.

The university authorities had set a deadline of Monday to remove the tent and stop the protest. The university authorities said that action will be taken if the instructions are not followed. However, ignoring the deadline set by the authorities, several students protested on the campus yesterday.

Meanwhile, the police dispersed the protest on the campus of the University of Texas in Austin, Texas. Several people have been arrested from there. Authorities there say the protesters were told to move their tents. They did not follow the instructions.

In a statement, authorities said rocks "the size of baseballs" were found on campus. Most of the protesters are believed to have no affiliation with the organization.

A lawyer named George Loeb worked with the protesters. He told the local media that the police arrested about 50 people from the Austin campus on Monday. The BBC has contacted the university authorities and the police to find out about this. But none of them responded.

Meanwhile, the elite Ivy League University in New York's Upper Manhattan area has put pressure on Columbia University authorities. The Ivy League university has said that if action is not taken against the protesters, Columbia University authorities will have to resign.

Speaker of the US House of Representatives, Mike Johnson, wrote in an X (former Twitter) message, "What is happening in Colombia is disgraceful." Anti-Semitic teachers and students are taking over the campus. The Republican leader demanded the resignation of Columbia University President Nemat Shafiq.

Last Saturday, one of the universities in the United States, Harvard University, has spread protests. There, students protested with Palestinian flags demanding an end to Israeli attacks on Gaza.

Final exams are scheduled to begin at several campuses in a few weeks. In the face of protests, several campuses including the Humboldt campus of the California State Polytechnic University have been closed. Online classes are going on.

Monday, April 29, 2024

দেশজুড়ে বৃষ্টি কবে হতে পারে, জানাল আবহাওয়া অফিস

 

    আবহাওয়া অধিদপ্তর

দেশজুড়ে বৃষ্টি কবে হতে পারে, তার সম্ভাব্য সময় আজ জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃষ্টির এ পূর্বাভাস জানান অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী ৪ থেকে ৫ মে দেশজুড়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।


আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও পাবনা জেলার ওপর দিয়ে তীব্র অতি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগ এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাকি এলাকাগুলো দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আজও চলবে।


এই তাপপ্রবাহের মধ্যেই আজ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


তবে এ ধরনের বৃষ্টি দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ কমাবে বলে মনে করেন না আবহাওয়াবিদেরা। তাপপ্রবাহ কমাতে চাই দেশজুড়ে বৃষ্টি।


মো. শাহীনুল ইসলাম আজ বলেন, এই তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশের দু-এক স্থানে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে। এখন এর পরিধি বাড়বে ধীরে ধীরে।


আবহাওয়া অফিস আগামী তিন দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আজ সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক বিভাগের কথা বলা হলেও আগামীকাল সিলেটে এবং চট্টগ্রামে বৃষ্টির বিস্তৃতি বাড়তে পারে।


আগামী বৃহস্পতিবার এই দুই বিভাগের সঙ্গে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগেরও দু-এক জায়গায় বৃষ্টির কথা বলেছে আবহাওয়া অফিস। তবে আগামী ৪ থেকে ৫ মে দেশের বড় অংশজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন শাহীনুল ইসলাম।


গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়, ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশে এবং ঢাকাতেও চলতি বছরের দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল।


সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে থাকে আবহাওয়া অধিদপ্তর।  


দেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয় মে মাসে। এরপর আছে জুন, সেপ্টেম্বর ও এপ্রিল মাস। কিন্তু এবার এই ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মাত্র একটি বজ্রঝড় বা কালবৈশাখী হয়েছে। তা–ও হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। সেটাও অস্বাভাবিক।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৯৮১ সাল থেকে চলতি ২০২৪ সাল পর্যন্ত বজ্রঝড়ের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুবিশেষজ্ঞরা প্রকৃতির এ আচরণকে অস্বাভাবিক বলছেন।

কক্সবাজারে র‌্যাবের সঙ্গে ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধ, গুলিতে কৃষকের মৃত্যু

 

    কক্সবাজার জেলার ম্যাপ

কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে অপহৃত একজন এনজিও কর্মীকে উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের সঙ্গে ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন কৃষক মারা গেছেন। গতকাল সোমবার রাতে সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাপাড়ার পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম বায়তুল্লাহ (৫২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছৈয়দুল হকের ছেলে।


অভিযানে র‍্যাবের সদস্যরা ডাকাত দল শের বাহিনীর অন্যতম সহযোগী ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে। একই সময় অপহৃত এনজিও কর্মী মাসুদ চৌধুরীকেও উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার ফরহাদকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


র‌্যাব সূত্র জানায়, বেসরকারি সংস্থা প্রত্যাশীর কর্মী মাসুদ চৌধুরীকে গতকাল বিকেলে অপহরণ করে ডাকাত দল শের বাহিনী। রাতে তাঁকে মুরাপাড়ার একটি পাহাড়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ছয় লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করে ডাকাত দল।


র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গতকাল বিকেলে ডাকাত দল শের বাহিনীর ফরহাদ-বোরহানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এনজিও কর্মী মাসুদকে অপহরণ করে পাহাড়ের আস্তানায় বেঁধে রেখে মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে।


খবর পেয়ে র‌্যাব সেখানে অভিযান শুরু করলে ডাকাত দল এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলিতে স্থানীয় কৃষক বায়তুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় র‌্যাবের একজন সদস্যও আহত হন।


পরে পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সদস্য ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ সাতটির বেশি মামলা রয়েছে।

নিহত বায়তুল্লাহর বড় ভাই করিম উল্লাহ বলেন, শের বাহিনীর সন্ত্রাসী ফরহাদ-বোরহানের নেতৃত্বে ডাকাত দলের সদস্যরা র‌্যাবের ওপর হামলা চালায়। শের বাহিনী এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে ভারুয়াখালী বাজারসহ আশপাশে চাঁদাবাজি ও অপহরণ করে আসছে। ভাই হত্যার ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...