Wednesday, January 31, 2024

30 dead bodies with their eyes and hands and feet bound under the rubble in Gaza

 

    Western countries have stopped donating to UNRWA, the UN agency for Palestinian refugees. Gazans are in trouble. The children of Gaza joined the elders in demanding relief aid. Last Tuesday in Rafah

At least 30 bodies have been found under the rubble of a school in the northern Palestinian territory of Gaza. These bodies were tied in plastic bags. 

Some of the bodies were decomposed and their eyes and hands and feet were bound, witnesses said. Palestine has demanded an international investigation, alleging that Israeli forces have caused this incident.

Meanwhile, the number of dead in the Israeli attack in Gaza has increased to about 27 thousand. The Gaza Health Ministry gave this information on Wednesday, the 117th day of Israel's indiscriminate attacks.

Thirty bodies were found yesterday in the grounds of Khalifa Bin Zayed Primary School in Beit Lahiya, northern Gaza, after Israeli forces withdrew. The bodies were buried under the rubble caused by the Israeli attack.

The bodies were wrapped in black plastic bags with plastic cables. Writing in Hebrew was found on the cable. This type of cable is usually used for cable ties.

An eyewitness said, "We were clearing the debris from the school premises. We were shocked to see so many dead bodies under the rubble.' He said, 'When we opened the black plastic bags, we saw the dead bodies already decomposing. The corpses were blindfolded and hand and foot tied. There were plastic handcuffs on the hands and feet.

The Ministry of Foreign Affairs of Palestine has demanded the formation of an international committee to investigate the matter as it is alleged that the Israeli forces killed these people after their detention.

The Palestinian independence organization Hamas has condemned this incident. In a statement on Telegram, the organization said, Israel is "killing" the Palestinian people without heeding the decision of the International Court of Justice (ICJ). The court asked them to stop the crimes of genocide and ethnic cleansing.

Meanwhile, Gaza's Ministry of Health said that at least 26,900 people have been killed as of yesterday.

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য

 

    যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন জানিয়েছেন, তাঁরা এমন মুহূর্ত তৈরি করতে চান, যখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে।


স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রাতে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ কথা জানান।


ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড কামেরন বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের অবশ্যই একটি রাজনৈতিক আশাবাদের জায়গা থাকতে হবে, যাতে তারা দেখতে পায় দুই রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে এমন অগ্রগতি হয়েছে, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় নেই।’


ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রটি কেমন হবে, এর ভৌগোলিক গঠন কেমন হবে ও কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে আমাদের কাজ শুরু করে দেওয়া উচিত।’


ডেভিড ক্যামেরন আরও বলেন, যদি এটা হয় অর্থাৎ সঠিক মুহূর্ত তৈরি করা যায় তাহলে আমরা আমাদের মিত্রসহ জাতিসংঘকে নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিষয়ে ভাবব।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে হামাসের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করলেন ইসরায়েলিরা

 

    জেরুজালেমে জাতীয় গ্রন্থাগারে ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহত ইসরায়েলিদের ছবির প্রদর্শনী

হামাসের হামলায় নিহত ইসরায়েলি নারীদের কারও কারও ‘যৌনাঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে কর্তন’ করা হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন চালানোর বিষয়টি ‘প্রশ্নাতীতভাবে’ প্রতীয়মান হয়েছে।


হামাসের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে কাজ করা ইসরায়েলিরা গতকাল বুধবার ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের কাছে এসব অভিযোগ করেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ শুনানির আয়োজন করা হয়।


তবে ইসরায়েলি নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।


গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হামাস। পাশাপাশি সংগঠনটির কয়েক শ সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে হামলা চালান। ইসরায়েল জানিয়েছে, ওই দিনের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন।


এ ছাড়া প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। জবাবে সেদিন থেকেই গাজা উপত্যকায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলের বাহিনী। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলমান এ হামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৯০০-এর বেশি ফিলিস্তিন নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।


গতকাল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বৈঠকে ইসরায়েলিরা যখন সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, তখন অনেক সংসদ সদস্য ও হাউস অব লর্ডস সদস্যের চোখ ভিজে যায়।


৭ অক্টোবরের ঘটনার পর শুরা সেনাঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া কয়েক নারীর মরদেহ শনাক্তের জন্য স্থপতি শারি মেন্দেসকে ডেকেছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।


তাঁকে ডাকা হয়েছিল রিজার্ভ সেনা হিসেবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ওই নারীদের অনেকের পরনে রক্তাক্ত ও কাটাছেঁড়া অন্তর্বাস ছিল। অনেকের পরনে কোনো কাপড় ছিল না।


শারি মেন্দেস বলেন, ‘আমাদের দলের কমান্ডার এমন কয়েকজন নারী সেনাকে দেখেছেন, যাঁদের যৌনাঙ্গ, ঊরুসন্ধি কিংবা স্তনে গুলি করা হয়েছিল। এটা অবাঞ্ছিত ঘটনা। ইচ্ছাকৃত ও পদ্ধতিগতভাবে যৌনাঙ্গ কাটা হয়েছে।’


ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা যে ঘটেছে, তার ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ তাঁর বাহিনীর হাতে আছে। এসব ঘটনা এত বড় মাত্রায় হয়েছে যে একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায়।


যুক্তরাজ্যের নারীবিষয়ক মন্ত্রী কেমি বাদেনচ বলেন, ‘সব কটি প্রতিবেদনকে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আওতায় আনতে হবে। যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে অবশ্যই নিন্দা জানাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।


ইসরায়েলের ধর্মীয় সংস্থা জাকা মরদেহ সমাহিত করে থাকে। সংস্থাটিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন সিমচা গ্রিনিমান। হামাসের হামলার পর তিনি অনেক মরদেহ উদ্ধার করেছেন।


এর মধ্যে একটি শোবার ঘরের খাট থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিবিসিকে সিমচা বলেন, ‘তাঁর শরীরের কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত কোনো কাপড় ছিল না। মাথার পেছন দিক থেকে তাঁকে গুলি করা হয়েছিল। তাঁর হাতে একটি তাজা গ্রেনেড ছিল।’


ব্রিটিশ নারীবিষয়ক মন্ত্রী কেমি বাদেনচ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি যুক্তরাজ্য সংহতি জানায়। ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে নিন্দা জানাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভারতে নেই চাকরি, কর্মীরা ছুটছেন ইসরায়েলে

 

    ইসরায়েল যাওয়ার জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হরিয়ানায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সারিতে অপেক্ষমাণ তরুণেরা

হিমশীতল সকাল। ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানার একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শত শত পুরুষ সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন। সবার কাছে ব্যাকপ্যাক ও দুপুরের খাবারের ব্যাগ। সবাই চাকরির জন্য ভারত ছেড়ে ইসরায়েলে যেতে চান। ইসরায়েলে নির্মাণকাজে নিয়োগের জন্য প্লাস্টারিং শ্রমিক, স্টিল ফিক্সার ও টাইলস সেটারের ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল গত সপ্তাহে। এ পরীক্ষা দিতেই সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা।


ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে আসা চাকরিপ্রার্থীদের একজন রঞ্জিত কুমার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। পেশায় শিক্ষক। কিন্তু তিনি চিত্রশিল্পী, স্টিল ফিক্সার, শ্রমিক, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ টেকনিশিয়ান ও একজন জরিপকারী হিসেবে কাজ খুঁজে পেতে চান।


৩১ বছর বয়সী রঞ্জিত বলেন, দুটি ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তিনি দিনে ৭০০ রুপির বেশি আয় করতে পারেন না। ডিজেল মেকানিক হিসেবে কাজ করার জন্য একটি সরকারি ‘বাণিজ্য পরীক্ষায়’ পাস করেছেন। এ ছাড়া ইসরায়েল আবাসন ও চিকিৎসার সুবিধাসহ প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার রুপি দিচ্ছে।


রঞ্জিত আরও বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্য সাতজন। তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে। গত বছর তিনি পাসপোর্ট পেয়েছেন। তিনি ইসরায়েলে ইস্পাত ফিক্সার হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘এ দেশে কোনো নিরাপদ চাকরি নেই। পণ্যের দাম বাড়ছে। ৯ বছর আগে স্নাতক পাস করার পরও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে পারিনি আমি।’


এ দেশে কোনো নিরাপদ চাকরি নেই। পণ্যের দাম বাড়ছে। ৯ বছর আগে স্নাতক পাস করার পরও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে পারিনি আমি।রঞ্জিত কুমার, ইসরায়েলে চাকরিপ্রার্থী

কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল নির্মাণ খাতকে সম্প্রসারণের জন্য চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে ৭০ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।


গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল, যা এখনো চলছে। এই হামলার পর ইসরায়েল প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিককে নিষেধ করেছে। এ কারণে দেশটিতে শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ইসরায়েল ভারত থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেবে। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা চাকরির আবেদন গ্রহণ করছে। হরিয়ানার রোহতক শহরের মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার আবেদনকারীর পরীক্ষার আয়োজন করছে। তবে এ বিষয়ে দিল্লিতে ইসরায়েল দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।


রঞ্জিতের মতো সারিতে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা ভারতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি ও কোনো সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কাজ করেন। অনেকেরই কলেজ ডিগ্রি আছে, তবু তাঁরা নিরাপদ চাকরির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। তাঁরা নির্মাণকাজের দিকে ঝুঁকছেন। মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন কাজ করেন। দিনে আয় হয় ৭০০ রুপির মতো।


আয় বাড়ানোর জন্য অনেকে একাধিক কাজ করেন। কেউ কেউ নিজেদের এ পরিস্থিতির জন্য আর্থিক বিপর্যয়, ২০১৬ সালের মুদ্রা নিষেধাজ্ঞা ও করোনার সময়ের লকডাউনকে দায়ী করেছেন। আবার কেউ কেউ সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেছেন।


অনেকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবৈধভাবে যাওয়ার জন্য এজেন্টদের অর্থ প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁরা বলছেন, এ সবই তাঁদের একটি নিরাপদ, আরও লাভজনক বিদেশি চাকরি খোঁজার জন্য প্ররোচিত করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার ঝুঁকির বিষয়টি তাঁরা কিছু মনে করছেন না।


রঞ্জিতের মতো আরেকজন চাকরিপ্রার্থী সঞ্জয় ভার্মা। ২০১৪ সালে স্নাতক পাস করেছেন। কারিগরি ডিপ্লোমাও আছে। পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী, রেলওয়েসহ এক ডজনের বেশি সরকারি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিতে ছয় বছর পার করেছেন।


২০১৭ সালে ইতালিতে একটি খামারের কাজে প্রতি মাসে ৯০০ ইউরো বেতনের চাকরি হয়েছিল। কিন্তু এ জন্য এজেন্টকে ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি দিতে না পারায় তাঁর ইতালিতে যাওয়া হয়নি।


আরেকজন চাকরিপ্রার্থী পারবত সিং চৌহান। তিনি বলেন, মুদ্রা নিষেধাজ্ঞা ও লকডাউনের ধাক্কায় তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান। ৩৫ বছর বয়সী চৌহান রাজস্থানে অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজের জন্য মাসে আয় ছিল ৮ হাজার রুপি।


শ্রমশক্তি সমীক্ষা থেকে পাওয়া সরকারি তথ্য বলছে, ভারতে বেকারত্ব হ্রাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে ৬ শতাংশ থেকে ২০২১-২২ সালে তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।


চৌহান বলেন, ‘অন্য অনেকের মতোই হাইস্কুল শেষে কাজের খোঁজে নেমে পড়ি। স্কুলে পড়ার সময় সংবাদপত্র বিক্রি শুরু করি। এতে মাসে ৩০০ রুপি আয় হতো। মায়ের মৃত্যুর পরপর কাপড়ের দোকানে কাজ নিই। আয় ভালো না হওয়ায় মুঠোফোন মেরামতের কোর্স করি। কিন্তু এতেও খুব একটি সুবিধা হয়নি।’


তবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ থেকে সাত বছর তাঁর ভাগ্যের উন্নতি হয়েছে। নিজে অ্যাম্বুলেন্স চালাতেন। গ্রামে ছোট ছোট নির্মাণকাজ পরিচালনা করতেন। কিছু ট্যাক্সি কিনে ভাড়া দিতেন। চৌহান বলেন, ‘কিন্তু লকডাউন আমাকে শেষ করে দিয়েছে। বন্ধক রাখার সামর্থ্য না থাকায় আমার গাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। এখন আবারও আমি অ্যাম্বুলেন্স চালাই। সরকারের ছোট ছোট নির্মাণকাজে ফিরে এসেছি।’

হরিয়ানার ৪০ বছর বয়সী টাইলস সেটার রাম। দুই দশক ধরে তিনি এই কাজ করছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও স্থবির মজুরির চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তাঁর মেয়ে বিজ্ঞানে স্নাতক করছেন। ছেলে চান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে।


এসব কারণে তিনি দুবাই, ইতালি ও কানাডায় চাকরির জন্য চেষ্টা করেছিলেন। তবে এজেন্টদের দাবি করা অতিরিক্ত ফি দিতে পারেননি তিনি, তাই যাওয়া হয়নি। বাসাভাড়া, সন্তানদের কোচিং ও খাবারের খরচ—সব মিলিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন রাম।


তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ইসরায়েলে যুদ্ধ চলছে। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। এখানেও তো মরে যেতে পারি।’


২৮ বছর বয়সী হর্ষ জাত ২০১৮ সালে মানবিক বিভাগে থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শুরুতে তিনি একটি গাড়ির কারখানায় মেকানিক হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরে তিনি পুলিশের গাড়িচালক হিসেবে দুই বছর কাটিয়েছেন।


এরপর গুরগাঁওয়ে পাব বাউন্সার হিসেবে কাজ করেছিলেন। এতে মাসে আয় হতো ৪০ হাজার রুপি। তিনি বলেন, ‘এসব কাজে কোনো নিরাপত্তা নেই। দুই বছর পরই চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেয়।’


হর্ষ জাত বলেন, চাকরি হারিয়ে তিনি পরিবারে ফিরে আসেন। তাঁর আট একর জমি আছে। কিন্তু এখন কেউ চাষ করতে চায় না। তিনি সরকারি চাকরি, কেরানি ও পুলিশের চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি।


তিনি আরও বলেন, তাঁর গ্রামের তরুণেরা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবৈধভাবে যাওয়ার জন্য এজেন্টদের ৬০ লাখ রুপি করেও দিয়েছেন। তাঁরা এখন বাড়িতে অর্থ পাঠাচ্ছেন, গাড়ি কিনছেন।


হর্ষ জাত বলেন, ‘আমি বিদেশে যেতে চাই। ভালো বেতনের চাকরি পেতে চাই। কারণ, যখন আমার সন্তান হবে, তখন সে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, আমাদের প্রতিবেশীর এসইউভি গাড়ি আছে, আমাদের কেন নেই? যুদ্ধের কারণে আমি ভীত নই।’


আমার কোনো ভয় নেই। আমি ইসরায়েলে কাজ করতে চাই। সেখানে ঝুঁকি নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ, দেশে চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই।অঙ্কিত উপাধ্যায়, ইসরায়েলে চাকরিপ্রার্থী

ভারতে কর্মসংস্থানে মিশ্র চিত্র দেখা যায়। শ্রমশক্তি সমীক্ষা থেকে পাওয়া সরকারি তথ্য বলছে, দেশে বেকারত্ব হ্রাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে ৬ শতাংশ থেকে ২০২১-২২ সালে তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।


বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ সন্তোষ মেহরোত্রা বলেন, সরকারি তথ্যে অবৈতনিক কাজকে চাকরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, এমন নয় যে চাকরি হচ্ছে না। এটা ঠিক যে সংগঠিত চাকরি কেবল বাড়ছে। আবার একই সময়ে চাকরি খুঁজছেন, এমন তরুণদের সংখ্যাও বাড়ছে।


আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটির সবশেষ স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া প্রতিবেদন অনুসারে, বেকারত্ব কমছে। কিন্তু তারপরও কর্মসংস্থানের হার ওপরে আছে। ৮০-এর দশক থেকে স্থবির হওয়ার পর ২০০৪ সালে নিয়মিত মজুরি বা বেতনযুক্ত কাজে শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।


পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২৫ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ে। ২০১৯ সালের পর থেকে ‘অর্থনৈতিক মন্দা ও মহামারি’র কারণে নিয়মিত মজুরির চাকরির গতি হ্রাস পেয়েছে।


প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৫ শতাংশের বেশি স্নাতক এবং ২৫ বছরের কম বয়সী ৪২ শতাংশ স্নাতকদের জন্য মহামারির পর দেশে কোনো চাকরি ছিল না।


প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৫ শতাংশের বেশি স্নাতক এবং ২৫ বছরের কম বয়সী ৪২ শতাংশ স্নাতকদের জন্য মহামারির পর দেশে কোনো চাকরি ছিল না।

আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রম অর্থনীতিবিদ রোজা আব্রাহাম বলেন, ‘এই গোষ্ঠীর উচ্চ আয়ের আকাঙ্ক্ষা আছে। তারা অনিরাপদ কাজ করতে চায় না। এই গ্রুপ উচ্চ আয়ের জন্য [ইসরায়েলে যাওয়ার] চরম ঝুঁকি এবং কিছুটা কম অনিশ্চয়তার জন্য ব্যবসা করছে।’

এমন গ্রুপেরই একজন উত্তর প্রদেশের অঙ্কিত উপাধ্যায়। তিনি বলেন, তিনি এজেন্টকে অর্থ দিয়ে ভিসা পেয়েছিলেন। মহামারি চলাকালে চাকরি হারানোর আগে কুয়েতে আট বছর স্টিল ফিক্সার হিসেবে কাজও করেছিলেন।

‘আমার কোনো ভয় নেই। আমি ইসরায়েলে কাজ করতে চাই। সেখানে ঝুঁকি নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ, দেশে চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই’—এভাবেই বলেছেন অঙ্কিত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে ক্যাম্পাসছাড়া করার দাবিতে বিক্ষোভ

 

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হলের সামনে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ‘অবাঞ্ছিত’ সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ওরফে লিটনকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।


গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের একাংশের এ বিক্ষোভের কারণে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি হলের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী নতুন কলা ভবন এলাকা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে এসে অবস্থান নেয়।


অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ফটকে পাল্টা অবস্থান নেন হাবিবুর রহমানের অনুসারী নেতা-কর্মীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা উত্তেজনার পর রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রদের ৯টি হলে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলমান। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকেন সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। আর মাওলানা ভাসানী হলে থাকেন সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল।


২৩ জানুয়ারি দুপুরে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্য হলের নেতা-কর্মীদের খোঁজ না রাখা, হল কমিটি না দেওয়া, জমি দখলসহ নানা অভিযোগ তুলে তাঁকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছয় হলের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।


এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ২৭ জানুয়ারি রাতে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং ১০ দিনের সময় বেঁধে দেয়।


তদন্ত চলমান অবস্থায় গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেল হল ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা।


ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও তদন্তাধীন অবস্থায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে দুই হলের কমিটি ঘোষণা করার প্রতিবাদে এবং লিটনকে ক্যাম্পাসছাড়া করতে একাংশের নেতা-কর্মীরা গতকাল এই বিক্ষোভ করেন।


এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেলিন মাহবুব বলেন, ‘অবাঞ্ছিত সেক্রেটারি কীভাবে হল কমিটি দেয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই দুটি হল কমিটি দেওয়া হয়েছে। আমরা এ কমিটি মানি না, অবিলম্বে অবাঞ্ছিত হাবিবুর রহমানকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দেখবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না। ইতিমধ্যে আমি ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।’

Tuesday, January 30, 2024

What did the Foreign Minister of Pakistan and Iran say?

 

    Iranian Foreign Minister Hossein Amir Abdullahian (left) and Pakistani Foreign Minister Jalil Abbas Jilani. Yesterday in Islamabad

Iran's Foreign Minister Hossein Amir Abdullahian and Pakistan's Foreign Minister Jalil Abbas Jilani, who are visiting Islamabad, discussed bilateral cooperation.

Iran's foreign minister arrived in Islamabad on Monday morning. Tensions between the two countries escalated after Pakistan and Iran counterattacked. 

After that, both the countries stressed on the development of bilateral relations by reducing the tension. In continuation of this, the foreign minister of Iran is visiting.

Meanwhile, 9 Pakistanis were shot dead in Sistan-Baluchistan last Saturday during this visit to reduce tension between the two countries. 

The assailant of this incident has not been identified. Pakistan has demanded speedy punishment and fair investigation of those responsible in this incident.

According to Pakistan's Foreign Office, the foreign ministers of the two countries emphasized the importance of dialogue and cooperation in developing bilateral relations. 

Both sides agreed to work towards the desired goal of peace and prosperity based on mutual respect and a collective approach to addressing common challenges. Iran's foreign minister invited Anwar-ul-Haq Qakar, head of Pakistan's caretaker government, to visit Tehran.

বাংলাদেশে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া উচিত: জাতিসংঘ

 

    জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।


গতকাল সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের কার্যালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্টিফেন ডুজারিক এ মন্তব্য করেন।


ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক তাঁর প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশে বিনা অভিযোগে বা অভিযোগে আটক সব রাজনৈতিক কর্মীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আহ্বানের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব কি একমত পোষণ করেন?


এই আটকের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতিহীন। মুখপাত্র জানেন, আটক রাজনৈতিক কর্মীর সংখ্যা ২৫ হাজার।


জবাবে মুখপাত্র বলেন, নীতিগতভাবে তাঁরা বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের জন্য মানুষকে কখনোই কারাগারে পাঠানো উচিত নয়। তাঁদের মুক্তি দেওয়া উচিত, বিশেষ করে তাঁরা যদি অভিযুক্ত না হন।

হাজার হাজার সেনা কেন মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ছেড়েছেন

 

    মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর টহল

গত বছরের আগস্ট মাসের এক রাত। ঝরছিল মৌসুমি বৃষ্টি। এমন আবহাওয়ার মধ্যেই মিয়ানমারের একটি সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে চলে যান ওউনা কিয়াও। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মতো আরও কয়েকজন সেনাসদস্য। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের এমন এক জায়গায় মোতায়েনের কথা ছিল, যেখানে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তা বাহিনীর চলছিল তুমুল লড়াই।


মিয়ানমারের ওই সামরিক ঘাঁটিটির অবস্থান কারেন প্রদেশে। রাতের যে সময় ওউনা কিয়াও ও তাঁর সহকর্মীরা চলে গিয়েছিলেন, তখন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সেনা কমান্ডাররা ঘুমাচ্ছিলেন।


এমন পদক্ষেপের জন্য কমপক্ষে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে ওউনা কিয়াওয়ের ভাষ্য, ‘আমার বিশ্বাস, চলে না গেলে আমি মারা পড়তাম।’


জানা গেছে, আত্মসমর্পণ করা দায়ে ওই ছয় জেনারেলের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।


ওউনা কিয়াওয়ের মনে শুধু কিছুক্ষণ বাদে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার ভয়ই কাজ করছিল না, বেসামরিক লোকজনের ওপর সামরিক বাহিনীর সহিংসতা নিয়েও আপত্তি ছিল তাঁর। দুই কারণেই তাঁর ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।


তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে আর থাকতে চাচ্ছিলাম না। মানুষের জন্য আমার খারাপ লাগে। আমার বাবা–মায়ের বয়সী মানুষগুলোকে মেরে ফেলা হচ্ছে। অকারণে তাঁদের ঘরবাড়িগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। আমি এসব দেখেছি। চোখের সামনেই সব ঘটেছে।’


ওউনা কিয়াওয়ের ওই ঘটনার পরের কয়েক মাসে জান্তা বাহিনীর আরও হাজার হাজার সেনা বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


এই সেনাদের অনেকে জানিয়েছেন, নৈতিকভাবে তাঁরা ওই অন্যায় মেনে নিতে পারেননি। তা ছাড়া রাজনৈতিক কারণও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অনেকে আবার জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের হামলার মুখে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।


২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে জান্তা বাহিনী। তখন থেকে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমন–পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক সরকার।


এই বিরোধীদের মধ্যে রয়েছেন জান্তার সহিংসতা ও দমন–পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া গণতন্ত্রপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহীরা।


বিদ্রোহীদের এই তৎপরতার মধ্যে গত ২৭ অক্টোবর থেকে নাটকীয়ভাবে জান্তা বাহিনীর ওপর চাপ বেড়েছে। সেদিন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের একটি জোট। এ হামলায় তারা সহায়তা পেয়েছিল সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে থাকা গোষ্ঠীর কাছ থেকেও।


এর পর থেকেই মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির অনেক অঞ্চল বিদ্রোহীরা দখলে নিয়েছেন। তাঁদের জান্তাবিরোধী এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ১০২৭’। তবে বিদ্রোহীদের এ অগ্রগতির মানে সামরিক বাহিনী বড় পরিসরে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—আগেভাগে এমন প্রত্যাশা করা উচিত হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।


বিশ্লেষকেরা যাই বলুক না কেন, গত অক্টোবর থেকে শুধু মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলেই বিদ্রোহীদের হাতে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ। প্রধান কিছু শহরও দখলে নিয়েছেন বিদ্রোহীরা। এটা সামরিক বাহিনীটির জন্য অপমানজনক। এ নিয়ে মিয়ানমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।


মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এখনো বিদ্রোহীদের চেয়ে অভিজ্ঞ। তাদের ভালো প্রশিক্ষণ রয়েছে। আর অস্ত্রশস্ত্রের দিক দিয়েও তারা বহু এগিয়ে।


২০২১ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় সেনাবাহিনী ছেড়েছিলেন সাবেক ক্যাপ্টেন হতেত মিয়াত। তিনি বলেন, ‘আমি যখন সামরিক বাহিনীতে ছিলাম, তখন কোনো ক্যাপ্টেনকে হত্যা—এমনকি আটকের খবরও খুবই বিরল ছিল। সে সময় শত্রুপক্ষের হাতে সামরিক বাহিনীর কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া বা ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র বেহাত হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’


চলতি মাসের শুরুর দিকে চীন সীমান্তের কাছে লুয়াক্কাই নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে নেন জান্তাবিরোধী যোদ্ধারা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের বিশ্লেষক ইয়ে মিও হেইন ওই ঘটনাকে ‘মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বলেছিলেন, তাঁর জানামতে সামরিক বাহিনীর ছয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ ২ হাজার ৩৮৯ সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন।

    মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধারা এখন দেশটির অনেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন


পরে খবর প্রকাশ হয়েছে যে আত্মসমর্পণ করার দায়ে ওই ছয় জেনারেলের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এমন খবর নাকচ করে দেওয়া হয়েছে জান্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে।


মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্যের সরকারের আন্তর্জাতিক সমন্বয়বিষয়ক মন্ত্রী ডা. সাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ অক্টোবর বিদ্রোহীদের অপারেশন ১০২৭ শুরুর পর থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর চার হাজারের বেশি সেনা হয় বাহিনী ছেড়েছেন, না হয় আত্মসমর্পণ করেছেন। এর আগে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে আরও ১৪ হাজার সেনা সদস্য বাহিনী ছেড়েছিলেন।


সেনাসদস্যদের বাহিনী ত্যাগের এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করাটা কঠিন। বিশ্লেষক ইয়ে মিও হেইনের হিসাবে, এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ১০ হাজার সদস্য বাহিনী ছেড়ে গেছেন। এ ছাড়া অপারেশন ১০২৭ শুরুর পথ থেকে সেনাদের মধ্যে আত্মসমর্পণের প্রবণতা বেড়েছে।


তিনি বলেন, পুরো এক ব্যাটালিয়ন সেনার আত্মসমর্পণ এবং সবশেষ গোটা আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডের আত্মসমর্পণ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা।


তবে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এখনো বিদ্রোহীদের চেয়ে অভিজ্ঞ। তাদের ভালো প্রশিক্ষণ রয়েছে। আর অস্ত্রশস্ত্রের দিক দিয়েও তারা বহু এগিয়ে। সামরিক বাহিনীর হাতে চীন ও রাশিয়ার দেওয়া যুদ্ধবিমান রয়েছে।


তবে সম্প্রতি বিদ্রোহীদের কাছে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের পরাজয় নিম্ন পদের সেনাদের মনোবল ভেঙে দেবে এবং তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের দক্ষিণ–পূর্ব এশীয় রাজনীতিবিষয়ক গবেষক মর্গান মাইকেলস বলেন, বিদ্রোহীদের হাতে সেনাসদস্যদের পরাজয়ের কারণে নৈতিক সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মতো কোনো সমস্যা তৈরি হোক বা না হোক, জান্তা সরকারের ভেতরে একধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে।

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...