Wednesday, April 9, 2025

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

        
Tesla CEO Elon Musk 

Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President Donald Trump's aggressive tariff policies, bypassing the adviser and making a personal appeal directly to Trump.

Two people familiar with the matter confirmed the incident on condition of anonymity. Although the effort has not yet been successful. Trump imposed another 50 percent tariff on Chinese goods on Tuesday. Although he has indicated that he is willing to negotiate some aspects of the tariff policy.

Meanwhile, Elon Musk posted a video on the social media platform X (formerly Twitter), in which he highlighted the positive aspects of the late conservative economist Milton Friedman's international trade cooperation.

He explains that the market system is driven by the price of goods, not personal relationships. Even the materials for a simple wooden pencil have to be sourced from all over the world.

Musk's disagreement with Trump over the US administration's top priorities is being seen as the biggest dispute between the president and one of his top advisers to date. Elon Musk poured nearly $290 million into supporting Trump and other Republicans in last year's US presidential election.

Elon Musk on Saturday took aim at White House trade adviser Peter Navarro, a key US administration official in the Trump administration's tariff plan, questioning his qualifications.

Musk has been leading cost-cutting efforts as head of the US Department of Government Efficiency (DOGE) since Trump took office. Musk has also disagreed with other members of the Trump administration on issues such as the H-1B visa for skilled immigrants and DOGE's approach to government spending.

Elon Musk on Saturday took aim at White House trade adviser Peter Navarro, a key US administration official in the Trump administration's tariff plan, questioning his qualifications.

In X, he wrote disparagingly, "Getting a PhD from Harvard University is a bad thing, not a good thing."

Navarro did not respond to a request for comment.

White House Press Secretary Carolyn Leavitt said in a statement, “The President has assembled an extraordinary team of highly talented and experienced individuals who bring diverse ideas to the table.”

But they also know that Trump will make the final decision. When he makes a decision, everyone follows the same path to implement it. That's why the current administration has done more in two months than the previous administration did in four years.

Italian Deputy Prime Minister Matteo Salvini said in an interview over the weekend that Musk had said he wanted to see a free trade area between Europe and the United States.

According to Musk, "At the end of the day, I think everyone agrees that the United States and Europe should be on the same path ideologically. And that, in my view, is moving toward a tariff-free environment."

Musk also said he wants more freedom for people to travel between countries in the United States and Europe, as well as to work in the country of their choice if they want. "That was definitely my advice to the president," he said.

Analysts say Musk, the chief executive of electric car maker Tesla, has been calling tariffs detrimental to the business goals of companies that consider both the United States and China as production and consumer hubs. Although the new tariffs will hurt other automakers more.

But Musk has been opposing the tariffs since at least Trump's first term, when Musk's company filed a lawsuit seeking to overturn the tariffs on Tesla imports from China.

In 2020, Tesla's top executives wanted the company to sue the Trump administration for imposing tariffs on China. Musk initially agreed, saying that parts of Trump's tariff policy were unfair to automakers.

But after Tesla filed the lawsuit in September 2020, Musk reacted “very negatively” to the decision, even rebuking some people for suggesting the lawsuit.

A person familiar with the matter said that right-wing accounts on Twitter were saying that Musk was trying to curry favor with the Chinese and was going against Trump's "America First" agenda.

Two sources said many business and technology leaders who supported Trump as a presidential candidate last year were surprised by his decision to impose higher tariffs and were equally disappointed that they were unable to exert more influence over the policy.

    Elon Musk poured nearly $290 million into Trump's campaign in last year's US presidential election.

Musk's inner circle appealed directly to Vice President J.D. Vance, Musk's friends in the Trump administration, and others, arguing that they favored a reasonable free trade policy rather than tariffs.

Musk's friend and investor Joe Lonsdale wrote in a post on X that he recently told "friends in the administration" that the tariffs would hurt US companies more than Chinese companies.

A group of business leaders worked over the weekend to form an informal group that would lobby members of the Trump administration for more moderate policies, a member of the group said.

The business leaders said many supported Trump in last year's presidential election despite knowing that Trump's long-promised imposition of high tariffs could be devastating for the tech industry and the overall economy.

They thought that after becoming president, the advisors might be able to influence Trump and shake his thinking.

Business leaders did not expect US Commerce Secretary Howard Lutnick, who was a key contact in the Trump administration for Musk, to be such a strong supporter of Trump's protectionist policies.

Musk, the world's richest man, has been at odds with the president and influential advisers over his resignation, just weeks before the world's richest man announced his resignation from the US administration. The situation comes at a time when Musk's Tesla is facing increasing pressure on demand.

It is believed that the company's involvement in politics has had a negative impact on demand.

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত

 

    বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা

ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করেছে ভারত। এর ফলে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে স্থলপথে বাংলাদেশের পণ্য নেপাল ও ভুটানে যাওয়ার সুযোগ আপাতত বাতিল হলো।


গতকাল মঙ্গলবার ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস এই সুবিধা বাতিল করে আদেশ জারি করেছে। এর পাশাপাশি ২০২০ সালের ২৯ জুন দেওয়া এ–সংক্রান্ত আদেশও বাতিল করা হয়।


ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


ভারতের ওই আদেশে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ওই আদেশ অনুসারে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানিতে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের একটি শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে অন্য কোনো বন্দর বা বিমানবন্দর ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। এখন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস এই সুবিধা বাতিল করল।


এ আদেশে আরও বলা হয়েছে, যেসব পণ্যবোঝাই যানবাহন ইতিমধ্যে ভারতের ভূখণ্ডে আছে, সেগুলো দ্রুত ভারতের ভূখণ্ড ত্যাগ করতে পারবে।


বর্তমানে স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য যায়। এখানে ট্রান্সশিপমেন্ট হলো, বাংলাদেশের পণ্য নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির সময় ভারতের ভূখণ্ড পাড়ি দিতে হয়। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতের ভূখণ্ড দিয়ে নেপাল ও ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত পণ্যের যানবাহন (ট্রাক, টেইলর) পরিবর্তন করা হয়। এটিই ট্রান্সশিপমেন্ট। ভারত এখন এই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল।

প্রধান উপদেষ্টা ১৬ এপ্রিল বিএনপির সঙ্গে বসবেন

 


আগামী ১৬ এপ্রিল বিএনপিকে সময় দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁরা সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিল বিএনপি। ওই দিন দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সাক্ষাৎ হতে পারে।

বিএনপিকে প্রধান উপদেষ্টার সময় দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আজ বুধবার দুপুরের দিকে ১৬ এপ্রিল বিএনপিকে সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়।


বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই সাক্ষাতে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথনকশা ঘোষণা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন। বিশেষ করে, নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে চাইবেন।


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রকৃত মনোভাব যে কী, তা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না বিএনপি। যতই দিন যাচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা বাড়ছে বলে মনে করছে দলটি। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানতেই বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়।


বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে কিছু জানানো হয়নি। আজ নতুন করে সময় জানানো হলো।


সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, গত সোমবার বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলের পক্ষ থেকে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়। উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সময় দেওয়া হলে দলের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করবে। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর রয়েছেন। ১৬ এপ্রিল তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এর আগে বিভিন্ন সময়ে দলীয় ও জাতীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এবার দলের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি একটু ভিন্ন। 


বিএনপি যে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়, সেটা প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি বলবে। কার্যত নির্বাচন নিয়ে সরকারের মনোভাব কী, তা স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা থাকবে। বিশেষ করে কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানা-বোঝার চেষ্টা করবেন বিএনপির নেতারা।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ওয়াক্ফ মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে

    ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ওয়াক্ফ আইন চ্যালেঞ্জ করে হওয়া মামলার শুনানি ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে শুরু হতে পারে। এ মামলা–সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এক ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। সরকার অনুরোধ করেছে, মামলার রায় দেওয়ার আগে তাদের বক্তব্য যেন শোনা হয়।


এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৫টি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো দ্রুত শোনার আরজি জানিয়েছিলেন আবেদনকারীরা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না আবেদনকারীদের বলেছিলেন, সর্বোচ্চ আদালতের ব্যবস্থা অনুযায়ী মামলা লিপিবদ্ধ করা হবে। গত মঙ্গলবার এনডিটিভি জানায়, ১৬ এপ্রিল মামলা শুনতে সর্বোচ্চ আদালত রাজি হয়েছেন।


ওয়াক্ফ বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাতে সম্মতি দেওয়ায় সেটি আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার গত মঙ্গলবার আইন কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। গতকাল মঙ্গলবারই নতুন আইন সারা দেশে বলবৎ হয়েছে।


নতুন আইন চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৫টি মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড, জামায়াতে উলেমা ই হিন্দ ও অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)। এই তিন সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। 


মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা মহম্মদ জাভেদ ও ইমরান প্রতাপগড়ি, হায়দরাবাদের এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি, বিহারের আরজেডি নেতা মনোজ ঝা ও ফয়াজ আহমেদ, ডিএমকের এ রাজা। মণিপুরের শাসক জোট এনডিএর শরিক এনপিপি নেতা শেখ নুরুল হাসানও মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


নতুন এই আইনের বিরোধিতায় বিভিন্ন রাজ্যে অশান্তি ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় গত মঙ্গলবার ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে আক্রমণ করে। পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। চারজন পুলিশ আহত হন। সংঘর্ষ বাধে মণিপুরেও। উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিক্ষোভকারী মুসলমানদের মুচলেকা নেওয়া শুরু করেছে।


ওয়াক্ফ বিল সংসদে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে ছিলেন না। বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা। গতকাল মঙ্গলবার তিনি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ওয়াক্‌ফ আইন সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এটি এক বড় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, এই আইনে গরিব মুসলমান, নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষিত হবে।


ওই অনুষ্ঠানে বিরোধীদের সমালোচনা করতেও মোদি ছাড়েননি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় থেকেই বিরোধীরা তোষণের রাজনীতি চালিয়ে আসছে। সেই তোষণনীতি মুষ্টিমেয় মৌলবাদীদের উপকার করলেও সাধারণ মুসলমানদের বঞ্চিত রেখেছে। নতুন আইন মুসলমান সমাজের সবার অধিকার সুরক্ষিত করবে।

Saturday, January 4, 2025

Failure to form coalition government, Austria's chancellor resigns

    Austrian Chancellor Karl Nehama

 

Austrian Chancellor Karl Nehama said he will step down as head of government and party leader in the next few days. He made this announcement in view of the failure of the talks between the political parties on the formation of the coalition government.

Karl Nehama said that the coalition talks between his party, the Conservative People's Party and the Social Democrats, did not reach consensus on some key issues.

Another political party known as Neos was involved in the negotiation process. The party withdrew from the talks last Friday.

The far-right Freedom Party won an unprecedented victory in Austria's general election last September. However, other political parties rejected the possibility of forming a coalition government with Freedom Party leader Herbert Kickle.

In this situation, many analysts say that because the talks to form a coalition government have failed, the conservatives may turn to talks with the far right of Austria or new elections may be held in the country.

In last September's elections, the Freedom Party got about 29 percent of the vote. Chancellor Carl Neumann's conservative People's Party was in second place. The party got 26.3 percent votes. Social Democrats are in the third position with 21 percent votes.

The Freedom Party is considered friendly to Russia. Earlier the party led the ruling coalition. The party is in favor of fresh elections. Because, since September, the popularity of the party has gradually increased in public opinion polls.

In a statement posted on social media X, the Freedom Party said that three months have already been wasted in post-election coalition talks. But this time, instead of stability, there was chaos.

Freedom Party leader Herbert Kickle has promised to build an 'Austrian fortress' to ensure the country's security and prosperity.

The party advocates a tough stance on legal issues for immigrants. The party even promoted the idea of ​​'remigration' of immigrants. This includes repatriation of aspirants.

নতুন পাঠ্যবই: গল্প, কবিতা ও ছবিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান

    ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ (বাংলা) বইয়ে স্থান পেয়েছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এই গ্রাফিতি।
 

পঞ্চম শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে মোট আটটি বিষয় স্থান পেয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের নতুন পাঠ্যবইয়ে নানাভাবে উঠে এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা। গল্প-কবিতা, সংকলন এবং ছবি ও গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু।


১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার নতুন শিক্ষাক্রম স্থগিত করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ৪১ জন বিশেষজ্ঞ দিয়ে ৪৪১টি পাঠ্যবই পরিমার্জন করেছে। এতে অনেক বিষয়বস্তু সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। বেশ কিছু গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা বা বিষয়বস্তু বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে স্থান পেয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুসহ নতুন কিছু গল্প-কবিতা।


এনসিটিবি সূত্রমতে, পঞ্চম শ্রেণি থেকে নবম–দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে মোট আটটি কনটেন্ট বা বিষয় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া বইয়ের পেছনের পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নানা ছবি ও গ্রাফিতি যুক্ত করা হয়েছে।


এবারের পাঠ্যবইয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাসের বইয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকাল পর্যন্ত বিষয় স্থান পেয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু সাহিত্যের অংশ হিসেবে বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে

অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান, চেয়ারম্যান, এনসিটিবি

‘আমরা তাঁদের কখনো ভুলব না’

পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর লেখা ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক একটি লেখা স্থান পেয়েছে। এতে আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে ইংরেজদের নির্যাতন থেকে এ দেশের কৃষককে বাঁচাতে গিয়ে যুদ্ধ করে শহীদ মীর নিসার আলী তিতুমীর থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কথা স্মরণ করা হয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর প্রতিকৃতিও স্থান পেয়েছে লেখায়।


   পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে শহীদ আবু সাঈদ


লেখাটিতে ইতিপূর্বে নানা ত্যাগতিতিক্ষার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘এত ত্যাগের পরও এ দেশের মানুষ অধিকার পায় না, বৈষম্য কমে না। অধিকারের দাবি ও বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে এ দেশের শিক্ষার্থীরা তাই ২০২৪ সালে আবার রাস্তায় নামে। সরকারি বাহিনী নির্মমভাবে সেই আন্দোলন দমন করতে চায়। পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রংপুরে ছাত্রনেতা আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ান। পুলিশ তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। এতে আন্দোলন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিশাল এক গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। ঢাকার উত্তরায় শিক্ষার্থী মীর মুগ্ধ আন্দোলনরত সবাইকে পানি বিতরণ করতে করতে নিহত হন। নিহত হন নাফিজ, নাফিসা, আনাসসহ অগণিত প্রাণ। মায়ের কোলের শিশু, বাবার সাথে খেলতে থাকা শিশু, রিকশাওয়ালা, শ্রমিক, কৃষক, ফেরিওয়ালা, চাকুরিজীবী, মা, পথচারী কেউ বাদ যান না। সারা দেশে হত্যা করা হয় হাজারো মানুষকে। আহত হন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা সবাই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন। সবার অধিকার থাকবে এবং সবাই মিলেমিশে বাস করতে পারবে—এমন একটা দেশের জন্যই তাঁরা শহিদ হয়েছেন। আমরা তাঁদের কখনো ভুলব না।’

   সপ্তম শ্রেণির ‘ইংলিশ ফর টুডে’ বইয়ে সেজান ও হান্নানের নাম এসেছে


কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ বইয়ে দুটি গদ্য যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ নামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ওপর লেখা একটি সংকলিত লেখা রয়েছে। এই লেখায় ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ছবি যে আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সব কথা তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি আঁকার কথাও আছে এই লেখায়।


কিছু কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও গ্রাফিতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ শুধু লিখে বা কথা বলে নয়; ছবি এঁকে, গান গেয়ে, এমনকি নৃত্য করেও করা যায়। এ দেশের মানুষ যুগে যুগে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে এমন প্রতিবাদ করেছেন। এসব কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার তাই আমাদের ইতিহাসের সম্পদ। এগুলো আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখবে, নতুন দিনের নতুন প্রয়োজনে আমাদের নতুনভাবে জাগিয়ে তুলবে।’


নতুন কবিতা সিঁথি, স্থান পেলেন দুই তরুণ র‍্যাপার

সপ্তম শ্রেণির ‘সপ্তবর্ণা’ বইয়ে হাসান রোবায়েতের লেখা ‘সিঁথি’ নামে একটি কবিতা যুক্ত হয়েছে। এই কবিতা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর লেখা। কবিতাটি এমন, ‘ভাই মরল রংপুরে সেই/ রংপুরই তো বাংলাদেশ/  নুসরাতেরা আগুন দিল/ দোজখ যেন ছড়ায় কেশ।...চিরকালই স্বাধীনতা/ আসে এমন রীতিতে/ কত রক্ত লাইগা আছে/ বাংলাদেশের সিঁথিতে।’


সপ্তম শ্রেণির ‘ইংলিশ ফর টুডে’ বইয়ে আলোচিত দুই তরুণ র‍্যাপার সেজান ও হান্নানের নাম এসেছে। বইয়ের ‘আ নিউ জেনারেশন’ নামে একটি পাঠে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁদের গানের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।


গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা

অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের ওপর সংকলিত লেখা ‘গণ অভ্যুত্থানের কথা’ স্থান পেয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে এ দেশের বড় তিনটি গণ-অভ্যুত্থানের কথা। এগুলো হলো উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালে হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।


লেখাটিতে গণ-অভ্যুত্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে বলা হয় ‘মনে রাখতে হবে, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হলেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়ে যায় না। এ জন্য আমাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে। সবাইকে পড়াশোনা করে মানুষ হতে হবে। দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সমাজ থেকে সব ধরনের অন্যায় ও বৈষম্য দূর করতে হবে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবেই ২০২৪–এর শহিদ ও আহতদের আত্মদান সার্থক হবে।’


অষ্টম শ্রেণির ইংলিশ ফর টুডে বইয়ে গণ-অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা নিয়ে ‘উইমেনস রোল ইন আপরাইজিং’ শীর্ষক একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকার কথা রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীদের ছবিও আছে এই অধ্যায়ে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি বহনকারী ভ্যান একজন নারী কীভাবে আটকে দিয়েছিলেন, সেই ছবিও স্থান পেয়েছে। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের কথাও আছে এই অধ্যায়ে।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’

   পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ


নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ নামের পাঠ্যবইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ওপর লেখা ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ নামে একটি সংকলিত প্রবন্ধ যুক্ত হয়েছে। এতে সরকারি চাকরিতে কোটা আন্দোলনের শুরু থেকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামলের দুর্নীতি, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হওয়াসহ নানা অনিয়মের চিত্রও বর্ণনা করা হয়।


অধ্যায়টির শেষের অংশে বলা হয়, ‘প্রকৃতপক্ষে অভ্যুত্থানে বিজয় একটি সুযোগ—সমস্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ, নতুনভাবে দেশ গড়ার সুযোগ। অতীতে এমন সুযোগ এ দেশে আরও কয়েকবার এসেছে; কিন্তু আমরা তাকে ব্যবহার করতে পারিনি, ধরে রাখতে পারিনি। এবারের সুযোগকে তাই আমাদের রক্ষা করতে হবে।...আমাদের মনে রাখতে হবে, হাজারো শহিদের আত্মদানে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। সেই প্রত্যয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভিন্নমতের প্রতি, ভিন্ন বিশ্বাসের প্রতি, ভিন্ন রীতি ও সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানোই গণ-অভ্যুত্থানের শিক্ষা। আর সেই শিক্ষা গ্রহণ করলেই আমাদের নতুন বিজয় সত্যিকারের গৌরবগাথা হয়ে উঠবে।’


নবম-দশম শ্রেণির ‘ইংলিশ ফর টুডে’ বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে লেখা ‘গ্রাফিতি’ নামে একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। এর শুরুতে রাজধানীর মেট্রোরেলের পিলারে আঁকা ‘হামাক বেটাক মারলু কেনে?’ শীর্ষক একটি প্রতিবাদী লেখা যুক্ত রয়েছে। শহীদ নূর হোসেনের বুকে লেখা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ শীর্ষক ঐতিহাসিক ছবির অনুকরণে আঁকা একটি গ্রাফিতিও রয়েছে এই অধ্যায়ে।


এভাবে নতুন পাঠ্যবইয়ে গল্প-কবিতা, ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নানা বিষয়।


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এবারের পাঠ্যবইয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাসের বইয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকাল পর্যন্ত বিষয় স্থান পেয়েছে। তাই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু সাহিত্যের অংশ হিসেবে বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে।

লক্ষণ রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার, শনাক্তের ব্যবস্থা নেই

    ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা আসছেন রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৫০ রোগী আসছে হাসপাতালটিতে। শিশুদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক-নার্সরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত শুক্রবারের ছবি
 

সারা দেশের জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া নিয়ে অনেক শিশু ভর্তি হচ্ছে। লক্ষণ দেখে চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক শিশু রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। কিন্তু এসব হাসপাতালে রোটাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা নেই।


কোনো কোনো হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের এই তীব্র শীতেও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে।


না বুঝে ভুলভাবে তৈরি করা স্যালাইন শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে—এমন নজিরও আছে। বরিশাল, কুমিল্লা, ময়মনসিংহের সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র পেয়েছেন প্রতিনিধিরা।


সারা দেশে শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের মতো মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে শিশু বেশি। 


গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ১৯২ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই হিসাবের মধ্যে আইসিডিডিআরবি, মহাখালী ও মতলব হাসপাতালের তথ্য নেই।


রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া মূলত ছোট বাচ্চাদের হয়ে থাকে। শুরুতে অল্প জ্বর, বমি থাকে। তারপর বারবার হলুদ রঙের পাতলা পায়খানা হয়। অনেক সময় পায়খানার জায়গার আশপাশে লালচে হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা ব্যথা অনুভব করে। টিকা দিয়ে রোটাভাইরাস প্রতিরোধ করা যেতে পারে।


ভুল নিয়মে স্যালাইন খাওয়ানোয় বিপদ

গত ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৯ মাস বয়সী শিশু রাফসানকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর অল্প পরিমাণ পানিতে এক প্যাকেট স্যালাইন গুলে শিশুটিকে খাওয়ানো হয়। ঘনত্ব বেশি হওয়ায় শিশুটির শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে তার কিডনি কার্যকারিতা হারিয়েছে। শিশুটির শরীর ফুলে গেছে।


ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চকরাধাকানাই গ্রামের এই শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন কঠিন হয়ে গেছে। বাবা শাহীন ইসলাম গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।


শিশুটির মা রুবি আক্তার বলেন, আগে জানলে সন্তানের এত বড় ক্ষতি হতো না।


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে প্রতিদিন রোগী ভর্তি করা হয়। শীতের তীব্রতা বাড়ায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর পরিমাণ বাড়ছে। 


গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৫০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সের বেশি শিশু ছিল মাত্র তিনটি। এই সাত দিনে শিশু ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


শিশু বিভাগে হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার মাজহারুল আমিন বলেন, ‘আমরা রোগীর লক্ষণ ও ইতিহাস শুনে বুঝতে পারি সেটা রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া কিনা। এটি পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও ময়মনসিংহে নেই। রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় শিশুরা পানিস্বল্পতায় ভুগে। অভিভাবকেরা নিয়ম অনুযায়ী স্যালাইন না খাওয়ার ফলে সমস্যা বাড়ে।’


শিশু বিভাগের তিনটি ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে রোগীতে ঠাসা। বারান্দা, লিফটের সামনেসহ সর্বত্র শিশুদের নিয়ে উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন অভিভাবকেরা।


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জামশেদ আলম বলেন, ‘রোটাভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতি স্থানীয়ভাবে সহজ নয়। আমরা নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআরবিতে পাঠাই। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’


রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া মূলত ছোট বাচ্চাদের হয়ে থাকে। শুরুতে অল্প জ্বর, বমি থাকে। এরপর বারবার হলুদ রঙের পাতলা পায়খানা হয়। অনেক সময় পায়খানার জায়গার আশপাশে লালচে হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা ব্যথা অনুভব করে।

 

১-৩ বছরের শিশুরা বেশি আক্রান্ত

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্র জানায়, ডায়রিয়াজনিত সমস্যায় গত শুক্রবার পর্যন্ত সাত দিনে শিশু বিভাগে ভর্তি হয়েছে ৪৪ শিশু। এর মধ্যে ৩৭ জনের বয়স এক থেকে তিন বছরের মধ্যে। এই শিশুদের প্রায় সবাই রোটাভাইরাসের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে শিশু মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই। পরীক্ষার মাধ্যমে রোটাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা এখানেও নেই।


কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আ‏হমেদ বলেন, প্রাপ্তবয়স্করা মূলত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন খাবারে বিষক্রিয়া থেকে। আর শিশুরা প্রায় সবাই আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাসের কারণে। 


ওরস্যালাইন খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুদের পানিশূন্যতা পূরণ করা হয়। তবে সেটিও হতে হবে পরিমাণমতো, বেশিও না, আবার কমও না। পরিমাণটা কমবেশি হলেই সমস্যা হবে। এই ডায়রিয়া সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত থাকে। তারপর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এ সময়ে শিশুদের খাবার স্বাভাবিক রাখতে হবে।


ডায়রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা, অবশ্যই স্যালাইন খাওয়াতে হবে। তবে এই স্যালাইন সঠিক নিয়মে তৈরি হতে হবে, সঠিক নিয়মে খাওয়াতে হবে। কম বয়সী শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। শিশুকে বাটিতে–চামচে করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা


লবণের ঘাটতি পূরণেই মূল চিকিৎসা

শুক্রবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২০টি শয্যা থাকলেও ভর্তি আছে ৩৮ শিশু। তাদের সবার বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এসব শিশুর অনেককে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকার ১৮ মাস বয়সী নাফিজা দুই দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। পরে শুক্রবার এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শিশুটির মা সাথী আক্তার বলেন, হাসপাতাল থেকে স্যালাইন দিয়েছে, নাপা ও অ্যান্টিবায়োটিক অ্যারিত্রোমাইসিন চলছে।


অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান উত্তম কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, অধিকাংশ ডায়রিয়া রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু তাঁদের হাসপাতালে যে শিশুরা ডায়রিয়া নিয়ে আসে, তাদের বেশির ভাগই আক্রান্ত হওয়ার তিন-চার দিন পর আসে। তারা বেশির ভাগই খারাপ ব্যাকটেরিয়ার কারণে আক্রান্ত হয়। সে বিবেচনায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।


প্রাপ্তবয়স্করা মূলত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন খাবারে বিষক্রিয়া থেকে। আর শিশুরা প্রায় সবাই আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাসের কারণে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আ‏হমেদ

চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়রিয়ায় শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের অসমতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী, পানিশূন্যতা ও লবণের ঘাটতি পূরণ করাই এর মূল চিকিৎসা। এটা পূরণে খাওয়ার স্যালাইন কিংবা আইভি স্যালাইনই মূল চিকিৎসা।


ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ডায়রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা, অবশ্যই স্যালাইন খাওয়াতে হবে। তবে এই স্যালাইন সঠিক নিয়মে তৈরি হতে হবে, সঠিক নিয়মে খাওয়াতে হবে। কম বয়সী শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। শিশুকে বাটিতে–চামচে করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...