Friday, August 30, 2024

The United States is ready to move forward in a new way

    Democratic Party candidate Kamala Harris and her running mate Tim Walz spoke to CNN about various issues surrounding the US presidential election. Last Thursday in Savannah, Georgia

 

Kamala Harris made a promise. He spoke about the path he would take if elected as the president of the United States. He said, he wants to be the president of the middle class. Want to strengthen their hands. Want to reduce the price of daily products. Want to bring the housing sector within the means. According to Kamala, the United States is ready to move forward in a new way.

59-year-old Kamala is a presidential candidate from the Democratic Party. He has only a couple of months left before the November election. Campaigning is going on vigorously. As part of this, he sat in conversation with the American media CNN on Thursday. He heard the words of hope there. Running mate Tim Walz was with him at this time.

Through this interview, Kamala silenced the Republican critics. They criticized Kamla for not participating in any interviews after Biden stepped down. In addition, he is scheduled to stand on the debate stage with Trump for the first time in Philadelphia on September 10. The outcome of that debate will greatly shape their electoral future.

The conversation was moderated by CNN's Dana Bash. It starts with a story. Asked how President Joe Biden informed him of his decision to withdraw from the election? Kamla said that she was cooking breakfast with her family that day. Then a phone call comes. On the other end was Biden. Said, he will not choose. Will support Kamala.

Serving as Vice President under Biden is one of the most prestigious achievements of his life, says Kamal. Want to move forward on the path shown by Biden. In that light, he spoke on various topics including government, politics, economy, border policy, foreign policy, energy policy, immigration.

In the conversation, Kamala Harris criticized the electoral rival and candidate of the Republican Party, Donald Trump. He said, because of Trump, the nation is getting divided. However, he thinks that the people of the United States are going to end the Trump era. The United States is now ready to move forward in a new direction. And if he is elected, he will put a Republican in his cabinet.

Kamala also spoke with Dana Bash about fossil fuel extraction and immigration in the United States. There is criticism that he has changed his policy on these two issues. However, dismissing it, Kamala made it clear, "If I am elected president, I will not ban the extraction of fossil fuels." And he will pass strict laws on immigration.

The Gaza issue of Palestine naturally comes up in the discussion. Kamala has always spoken in favor of a cease-fire agreement in Gaza. In the conversation, he said, as a close ally of the United States, there will be no change in Biden's policy towards Israel. He will not stop the supply of weapons to the country to carry out operations in Gaza.

Kamala said that 1,200 people were killed in the attack by Hamas in Israel. Women are victims of rape. He has said before, and still says, that Israel had, and still has, the right to defend itself. On the other hand, many innocent Palestinians have been killed. A deal must be made. This war must end. A deal must be made to release the hostages.

Thursday's interview was held in Savannah, Georgia. After a while, Kamla and Walz participated in an election rally in this area. About 7,500 Democrat supporters participated in the rally. Many held placards reading 'Freedom' and 'New Journey'. In the rally, Kamala said that one has to work hard to win the election.

Kamala is having a sweet time since becoming a candidate. He is ahead of Trump in various polls. Also collected record amount of election funds. But Trump is not one to give up. He continues to attack Kamala in the election campaign. As Trump said at a rally in Michigan on Thursday, Kamala does not look like a leader to him. And Kamala's interview on his own social media, Truth Social, wrote, 'Monotonous'.

চার মাসের দুর্যোগে প্রায় ২ কোটি মানুষ আক্রান্ত

    বন্যা থেকে বাঁচতে নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটছে মানুষ
 

  • এখন পর্যন্ত ১১টি জেলার ৬৪টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত।
  • পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২।
  • ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি।


দেশে গত মে মাস থেকে চলতি আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব দুর্যোগের মধ্যে ছিল ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা। সবচেয়ে বেশি ৫৯ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যায়। জাতিসংঘের মানবিক–বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।


আরেক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বলেছে, এবারের বন্যায় ২০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকির মধ্যে আছে। এই শিশুদের বড় অংশ এখনো অভিভাবকদের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র বা উঁচু জায়গায় অবস্থান করছে। বিগত ৩৪ বছরে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এটি সবচেয়ে ভয়ংকর বন্যা। আর এ বছর এখন পর্যন্ত সব দুর্যোগ মিলিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৫০ লাখ।


ইউনিসেফ ছাড়াও দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর জোট ইন্টার কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ ও হিউম্যানিটারিয়ান টাস্কফোর্স টিম বাংলাদেশের বন্যা নিয়ে যৌথ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বলা হয়, সর্বশেষ বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় সাত হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। 


এসব প্রতিষ্ঠানে খাওয়ার পানির উৎস, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা, পাঠদান কক্ষসহ বেশির ভাগ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ স্কুলের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।


বছরে দুর্যোগে যত ক্ষতি

২০ আগস্ট থেকে দেশের দক্ষিণ ও উত্তর–পূর্বের ১১টি জেলায় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। এর সঙ্গে উজানের ঢল মিলে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সর্বশেষ জানিয়েছে, বন্যায় ৫৪ জন মারা গেছে। বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ফেনীতে ১৯ জন।


মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১টি জেলার ৬৪টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জেলাগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট। পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি।


ওসিএইচএর হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫৯ লাখ। এ সংখ্যা এ বছরের অন্য যেকোনো দুর্যোগে সর্বোচ্চ। এ বছর প্রথম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় রিমাল। গত ২৬ মে এটি উপকূলে আঘাত করে। আক্রান্ত হয় ৪৬ লাখ মানুষ।


বৃহত্তর সিলেটে ১২ থেকে ১৯ জুন এবং ৪ থেকে ১১ জুলাই দুই দফায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সৃষ্টি হয় বন্যা পরিস্থিতির। তবে সব দুর্যোগ ছাপিয়ে যায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি।


ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন

ওসিএইচএ বা সরকারি সূত্রে চলতি বন্যা নিয়ে যেসব হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ক্ষতি সম্পর্কে সঠিক চিত্র পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন দুর্যোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা। 


তিনি বলেন, এবারের বন্যায় কল্পনাতীত ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতির হিসাব তিন সপ্তাহ পর, এরপর দ্বিতীয় দফায় আট সপ্তাহ পর এবং ১২ সপ্তাহ পর করতে হয়। তখন সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে।


বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ ডিজাস্টার ফোরাম বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ করে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ডিজাস্টার ফোরামের সদস্যসচিব গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়িতে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 


ফেনীর ৬০ শতাংশ জমি বালুতে পূর্ণ হয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে গেছে। মানুষ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে, কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা বিধ্বস্ত বাড়িঘর পাচ্ছে। বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। এসবের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আছে।


বন্যাকবলিত জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর বলছে, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে। এখন পর্যন্ত যে চিত্র, তাতে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের। এসব খাতে জেলা চারটিতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। 


বন্যায় কুমিল্লায় মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ এরই মধ্যে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও আদর্শ সদর উপজেলার বেশির ভাগ ফসলি জমি পানির নিচে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারিরা। মারা পড়েছে অসংখ্য গবাদিপশু। 


নোয়াখালীতে ডুবে গেছে ৮৫ হাজার ৩৭৯টি পুকুর, দিঘি ও মাছের খামার। মৎস্য খাতেই কেবল ৬১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের করা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের চার উপজেলা ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৩০০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।


আন্তর্জাতিক সহায়তার তাগিদ

এবার ১১ জেলায় যে বন্যা হয়েছে, তা মূলত হঠাৎ বন্যা। এর বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপকহারে প্লাবন হয় এবং দ্রুতই পানি নেমে যায়। কিন্তু হঠাৎ ব্যাপক প্লাবন হলেও পানি নামছে খুব ধীরে।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, অন্য সময়ের আকস্মিক বন্যার তুলনায় এবার পানি নেমে যাওয়ার হার কম।


পানি ধীরে নামার কারণ হিসেবে বন্যার শুরুতে পূর্ণিমার জন্য সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ার, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং উপদ্রুত এলাকার নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দুর্যোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আবদুল লতিফ খান বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা হয়েছে, যেমন ফেনী বা কুমিল্লার মতো এলাকাগুলো দীর্ঘকাল এ অবস্থার মুখোমুখি হয়নি। এবারের বন্যা এসব এলাকার জন্য অস্বাভাবিক, অভূতপূর্ব। দুর্যোগের ভয়াবহতা বিবেচনায় শুধু সরকারি নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দাতাদের এগিয়ে আসাটা জরুরি।


ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন দুর্যোগ ও ত্রাণসচিব কামরুল হাসান। এ ব্যাপারে দাতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানান তিনি।


বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় ৫৫ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলতি বছরে আগে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় আক্রান্ত সোয়া কোটির বেশি মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করছি, যেন সমন্বিতভাবে আমরা এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারি।’

নৃশংসতা রোধে জাতিসংঘকে পাশে চায় বাংলাদেশ

 

    জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ককে (ডানে) চিঠি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (বাঁয়ে)

শুধু জুলাই–আগস্ট মাসে আন্দোলন–অভ্যুত্থান ঘিরে তদন্ত নয়, অতীতে ও সর্বশেষ নৃশংসতার উৎস খুঁজে বের করে ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জাতিসংঘকে পাশে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার।


এ সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ককে লেখা চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে (গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট) মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলা হয়েছে।


গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।


জেনেভা ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দল সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আসতে পারে।


৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সব মানবাধিকার সমুন্নত রাখার কথা জানিয়ে আসছে। 


এরই মধ্যে গুমের ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সনদ সই করেছে বাংলাদেশ। গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।


অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে অগ্রবর্তী দলটি বিভিন্ন বৈঠকে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপ্রয়োগের তদন্তের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেছে।

মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানি


এর আগে আন্দোলন-অভ্যুত্থান ঘিরে যেসব বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলোর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। 


এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। এরপর মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের একটি অগ্রবর্তী দল আট দিনের ঢাকা সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার ফিরে গেছে।


অগ্রবর্তী দলের ৪০ বৈঠক

২২ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রুরি ম্যানগোভেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অগ্রবর্তী দলটি ঢাকা সফরে আসে।


জেনেভা ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা সফরের সময় অগ্রবর্তী দলটি নানা পর্যায়ে অন্তত ৪০টি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে তদন্তের কাজে জাতিসংঘের যুক্ততার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সংস্কার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের যুক্ততার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেছে অগ্রবর্তী দলটি। 


এ বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানির ব্রিফিংয়েও এসেছে। গতকাল জেনেভায় বাংলাদেশের সঙ্গে মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের কার্যক্রমের হালনাগাদ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অগ্রবর্তী দলটি সাম্প্রতিক বিক্ষোভে যুক্ত ছাত্রনেতা, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, অগ্রবর্তী দলটি ঢাকায় আলোচনা করে কী পেল, তার সামগ্রিক চিত্র হাইকমিশনারের দপ্তরে উপস্থাপন করবে। এরপর হাইকমিশনারের দপ্তর তা মূল্যায়ন করে তথ্যানুসন্ধান দল পাঠাবে।

 

মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে অগ্রবর্তী দলটি বিভিন্ন বৈঠকে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপ্রয়োগের তদন্তের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেছে। 


তারা নাগরিক পরিসর, সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা, ক্ষতিপূরণ, বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি সংস্কারের প্রক্রিয়ায় মানবাধিকারের অন্যান্য পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর টেকসই উপায়ে কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছে।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, অগ্রবর্তী দলটি ঢাকায় আলোচনা করে কী পেল, তার সামগ্রিক চিত্র হাইকমিশনারের দপ্তরে উপস্থাপন করবে। এরপর হাইকমিশনারের দপ্তর তা মূল্যায়ন করে তথ্যানুসন্ধান দল পাঠাবে।


জাতিসংঘের কাছ থেকে শুধু তদন্তের জন্যই সহায়তা চাওয়া হয়নি। যে নৃশংসতা ঘটেছিল, আগামী দিনে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কারে আমাদের কী কী করণীয়, সে বিষয়গুলোতেও তারা সুপারিশ করবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান 


সংকটের উৎস সন্ধান ও ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ

এ সপ্তাহে জাতিসংঘের অগ্রবর্তী দলের বাংলাদেশে অবস্থানের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেস্টা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শুরুর জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে (১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট) মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জাতিসংঘের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়।


সরকার আরও মনে করে যে ওই আন্দোলন, অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে লোকজনের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা একেবারে হঠাৎ হয়নি। তাই কেন এমন নৃশংসতা হলো তথ্যানুসন্ধানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর উৎস খুঁজতে হবে। নৃশংসতার উৎস খুঁজে তা প্রতিরোধ করার সুপারিশ করতে হবে। 


জাতিসংঘের এসব সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যাতে অতীতের নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি রোধ নিশ্চিত করা যায়।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার চিঠির বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানিও উল্লেখ করেছেন। 


গতকাল ওই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তথ্যানুসন্ধানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।


ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপপ্রয়োগের বিষয়ে প্রতিবেদনের পাশাপাশি এসবের মূল কারণ বিশ্লেষণ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য সুপারিশের লক্ষ্যে হাইকমিশনারের দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি তথ্যানুসন্ধানী দল নিযুক্ত করবে। 


তথ্যানুসন্ধানী দলটি কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছে।


জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘জাতিসংঘের কাছ থেকে শুধু তদন্তের জন্যই সহায়তা চাওয়া হয়নি। যে নৃশংসতা ঘটেছিল, আগামী দিনে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কারে আমাদের কী কী করণীয়, সে বিষয়গুলোতেও তারা সুপারিশ করবে।’

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত: রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যাঁর উত্থান

 

    

২০০৯ সালে আ.লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। শুরুতে সখ্য  গড়ে ওঠে মহীউদ্দীন খান ও বেনজীরের সঙ্গে।


স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১৯৯৯ সালে চাকরিজীবন শুরু করেন চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। বিদেশি এ ব্যাংকে থাকার সময় হঠাৎ করেই বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হন তিনি। এক ব্যাংকে চাকরি আর অন্য ব্যাংকে পরিচালক—এমন প্রশ্ন ওঠার পর তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেন।


২০০৮ সালে তিনি যোগ দেন আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে। হন কনজ্যুমার ব্যাংকিংয়ের প্রধান। ভিজিটিং কার্ডে তিনি নিজের পরিচয় ‘এমডি, কনজ্যুমার ব্যাংকিং, আইসিবি গ্লোবাল হোল্ডিংস’ ব্যবহার করতেন।


তার আগেই চৌধুরী নাফিজ সরাফাত একটি মিউচুয়াল ফান্ডের লাইসেন্স নেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে। লাইসেন্সের জন্য প্রথমে নিজের নামে আবেদন করেছিলেন। যেহেতু ব্যক্তির নামে লাইসেন্স দেওয়া হয় না, তাই বিএসইসি সদস্য মোহাম্মদ আলী খানের পরামর্শে পরে তিনি কোম্পানি গঠন করেন। 


এ কোম্পানিরই নাম বাংলাদেশ রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, যাতে তাঁর মালিকানা ২৫ শতাংশ। বাকি মালিকানা অন্য অংশীদার হাসান ইমামের। বিএসইসিতে তখন থেকে যাঁরা চাকরি করতেন, তাঁরা এসব তথ্য জানিয়েছেন, যা নিশ্চিত করেন নাফিজ সরাফাতও।


গোপালগঞ্জের মানুষ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ‘কাজিন’ হিসেবে অন্যদের কাছে পরিচয় দিতেন।


আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন খাতের অন্যতম প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন নাফিজ সরাফাত। শুরুতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। পরে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্কের চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। গোপালগঞ্জের এই ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে ‘ফুফু’ বলে সম্বোধন করতেন। আর সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছিলেন তাঁর ‘চাচা’। গোপালগঞ্জের মানুষ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ‘কাজিন’ হিসেবে অন্যদের কাছে পরিচয় দিতেন।


■ চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ছিলেন বিদেশি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। বাড়ি গোপালগঞ্জে। 

■ শেখ হাসিনাকে নাফিজ সরাফাত ‘ফুফু’ ডাকতেন, আ হ ম মুস্তফা কামালকে ডাকতেন ‘চাচা’।  

শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে নাফিজ সরাফাতের সম্পর্কের কথা ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের প্রায় সবারই জানা।


মাত্র ১৩ বছরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক, পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যমসহ আরও কিছু খাতে রহস্যজনক কিন্তু অপ্রতিরোধ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান নাফিজ সরাফাত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তিনি মালিক হন হাজার কোটি টাকার। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নাফিজ সরাফাতের সম্পদ অনুসন্ধান করতে দুদক তিন সদস্যের দল গঠন করেছে।


পুঁজিবাজার দিয়ে উত্থান

নাফিজ সরাফাত চেয়েছেন কিন্তু হয়নি, পুঁজিবাজারে এমন ঘটনা নেই বলে জানান বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড দিয়ে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যাত্রা শুরু। বর্তমানে মেয়াদি ও অমেয়াদি মিলিয়ে রেসের ফান্ড রয়েছে ১৩টি।


১০টি ফান্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এগুলোর অবসায়ন হয়নি, নাফিজ সরাফাতের তদবিরে বরং আরও ১০ বছর বেড়েছে। তখন বিএসইসির চেয়ারম্যান ছিলেন এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘তহবিলগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব শুরুতেই আমি নাকচ করে দিয়েছিলাম। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তখন চিঠি দিয়ে বললেন, এটা দেওয়া যায়। তখন দিতে হয়েছিল।’

মুষ্টিমেয় লোককে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে পুঁজি লুণ্ঠনের সুযোগ করে দেওয়া যে পদত্যাগী শেখ হাসিনা সরকারের বৈশিষ্ট্য, তা আমাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে। নাফিজ সরাফাত তাঁদেরই একজন।
মইনুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ 

২০ আগস্ট সার্বিক বিষয়ে নাফিজ সরাফাতের সঙ্গে ফোনে এই প্রতিবেদকের কথা হয় প্রায় ৫০ মিনিট। তহবিলগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, একবারে তহবিলগুলো অবসায়ন হলে বাজার থেকে টাকাগুলো উঠে যেত, যাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। তাই তিনি মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন নেন।


তিনি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচিত হন ২০২১ সালে। গত ৩০ জুন শেষে রেস পরিচালিত তহবিলগুলোর ক্রয়মূল্যে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যার বাজারমূল্য ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।


বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে গত জুন থেকে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তহবিলগুলোর ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত রয়েছে।


বেস্ট হোল্ডিংসকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনার পাশাপাশি ছোট প্রতিষ্ঠান কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও অনুমোদনেও তদবিরে নেমেছিলেন নাফিজ। কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আখতারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল তখন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)।


নাফিজ সরাফাত এফআরসিতে তদবির করতে এসেছিলেন জানিয়ে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ সম্প্রতি বলেন, ‘এ কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি না হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন এসেছেন, জানতে চেয়েছিলাম। অন্য ধরনের কিছু থাকতে পারে, সন্দেহ হওয়ায় নাফিজ সরাফাতের তদবিরে সায় দিইনি।’ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তৎকালীন সচিব আসাদুল ইসলামও নাফিজ সরাফাতের পক্ষে তদবির করেছিলেন বলে জানান মুশতাক। 


কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নামে ১৭১ কাঠার প্লট

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান উপদেষ্টা সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, যিনি পরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১৭১ দশমিক ১৬ কাঠার একটি প্লট এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেয় রাজউক। এতে সরকারের ক্ষতি হয় ৭৭ কোটি টাকা।


রাজউক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মূল নকশায় প্লটটি ছিল ‘সেকেন্ডারি স্কুল’। শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়’ করতে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর নাফিজ সরাফাত আবেদন করলে রাজউকের পর্ষদ সভায় তা উপস্থাপিত হওয়ার পর ২৬ ডিসেম্বর অনুমোদন দেওয়া হয়।


গুলশানের ১০৩ নম্বর সড়কের একটি প্লটের মালিক নাফিজ সরাফাতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা সাহিদ চৌধুরী। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই এটিকে বাণিজ্যিক প্লট করার আবেদন করলে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপে রাজউক এতে অনুমোদন দেয়। অথচ প্লটটি ‘বাণিজ্যিক ব্যবহারের আওতাভুক্ত নয়’ বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল রাজউক। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রাজউক অনুমতি দিয়ে বলেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ অনুমতি দেওয়া হলো।


নাফিজ সরাফাত এ বিষয়ে বলেন, লটারিতে অংশ নিয়েই ১৭১ কাঠার প্লট পেয়েছিলেন তাঁরা। আর এটা যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই আইনের লঙ্ঘন হয়নি। বাণিজ্যিক প্লটও আইন অনুযায়ীই হয়েছে।


এ কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি না হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন এসেছেন, জানতে চেয়েছিলাম। অন্য ধরনের কিছু থাকতে পারে, সন্দেহ হওয়ায় নাফিজ সরাফাতের তদবিরে সায় দিইনি।

এফআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ


ব্যাংক খাতে নাফিজ সরাফাত

রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে ফারমার্স ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে। চার বছরে দুর্নীতির কারণে ব্যাংকটি মৃত্যুশয্যায় পৌঁছালে ২০১৭ সালের নভেম্বরে চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন তিনি। 


নতুন চেয়ারম্যান হয়ে আসেন নাফিজ সরাফাত। বিদেশি বিনিয়োগ আনার আশ্বাসে ব্যাংকটিকে অনেক নীতি ছাড় দেয় গভর্নর ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ৭১৫ কোটি টাকা দিয়ে ব্যাংকটির ৬৫ শতাংশ শেয়ার নেয় সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও আইসিবি।


২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ফারমার্সের নাম রাখা হয় পদ্মা। কিন্তু নাফিজের ছয় বছরে ব্যাংকটি আরও খারাপ হয়। খেলাপি ঋণ ৬২ শতাংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক ছেড়ে চলে যান তিনি। পদত্যাগী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারকে দিয়ে এ ব্যাংককে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার ব্যবস্থা করেন নাফিজ সরাফাত।


নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বেশি আছে। তবে আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর কেউ ঋণ পাননি। ব্যাংকটির ভালোর জন্যই একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।’


পদ্মা ব্যাংকের পর নাফিজ সরাফাতের নজর পড়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের দিকে। ব্যাংকটির সাবেক দুই চেয়ারম্যান এম এ কাশেম ও আজিমুদ্দিন আহমেদকে কৌশলে পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেন তিনি। সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়ে আসেন আলমগীর কবির। নাফিজ সরাফাতের স্ত্রী আনজুমান আরা সাহিদ হন পরিচালক। ছেলে চৌধুরী রাহিব সরাফাতকে ব্যাংকটির পরিচালক করতে চাইলেও অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তা হয়নি।


বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুর রউফ তালুকদার। বিআইএফএফএলের এমডি ফরমানুল ইসলামকে একদিন ডেকে নিয়ে তিনি কিছু ‘ভুল’ বিনিয়োগের জন্য চাপ দেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও নাফিজ সরাফাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


ফরমানুল ইসলাম বলেন, ‘রাজি না হওয়ায় বিআইএফএফএল থেকে আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।’ বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডেও বিআইএফএফএল থেকে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য নাফিজ সরাফাত চাপ দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।


খেলাপি ঋণ বেশি আছে। তবে আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর কেউ ঋণ পাননি। ব্যাংকটির ভালোর জন্যই একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নাফিজ সরাফাত


গণমাধ্যম খাতে নাফিজ সরাফাত

অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডট কম এবং ২৫ বছর পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুনরায় চালু হওয়া দৈনিক বাংলার নিয়ন্ত্রণ নাফিজ সরাফাতের। দুটির সঙ্গেই জড়িত এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। আর গণমাধ্যম দুটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাফিজ সরাফাতের ভাই চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।


নিউজবাংলা উদ্বোধনের দিনই নাফিজ সরাফাত টিভি চ্যানেল আনার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় তিনি টিভি আনার উদ্যোগ নেন, তা এখনো রহস্যাবৃত। ২০১৭ সালে সিটিজেন টিভি নামে একটি চ্যানেলের লাইসেন্স পেয়েছিলেন (এখনো সম্প্রচারে আসেনি) আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান।


শফিকুর রহমান গত ৩০ মে এক লিখিত অভিযোগে জানান, একদিন রাত ১২টার দিকে তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ওয়েস্টিন হোটেলে নিয়ে যান এবং প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ার লিখে নেন নাফিজ সরাফাত। সঙ্গে ছিলেন পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ আরও কয়েকজন। এটি ২০১৯ সালের ঘটনা। 


পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ৩০ শতাংশ, বেনজীর আহমেদের দুই মেয়ের নামে ৩০ শতাংশ, নাফিজ সরাফাতের নামে ২৫ শতাংশ এবং টুটুল নামের একজনের নামে ১৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাফিজ সরাফাত এ ঘটনাকে বানোয়াট বলে দাবি করেন।


নাফিজ পরিবারের কার কী সম্পদ

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোয় মালিকানার পাশাপাশি নাফিজ সরাফাত আরগাস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান। আর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির পর্ষদে আছে তাঁর ভাই-বোন ও ছেলেমেয়ে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ারের পরিচালক নাফিজ সরাফাত। 


পদ্মা ব্যাংকের গোপালগঞ্জ শাখাটি তাঁদের পারিবারিক ভবন। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গ্রিন রোড, গুলশান, বারিধারা ও নিকুঞ্জে নাফিজ, তাঁর স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর বাইরে কানাডায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।


কানাডা বাংলাদেশ চেম্বার হাউসের (কানাডা) সভাপতি, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব ও আর্মি গলফ ক্লাবের সদস্য, ওয়ার্ল্ড চেজ ফেডারেশনের (বাংলাদেশ বিভাগ) সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য তিনি।


নাফিজ সরাফাত বলেন, তিনি খুব পরিশ্রমী। ৮০ বছরের পরিশ্রম যোগ করলে যা হয়, তা তিনি করেছেন ৫০ বছর বয়সে। আর যাঁদের সঙ্গে সখ্যের কথা বলা হচ্ছে, ব্যবসা করতে করতেই তা হয়েছে।


শফিকুর রহমান গত ৩০ মে এক লিখিত অভিযোগে জানান, একদিন রাত ১২টার দিকে তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ওয়েস্টিন হোটেলে নিয়ে যান এবং প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ার লিখে নেন নাফিজ সরাফাত।


লেখক মুশতাকের মৃত্যু, নেপথ্যে কী

নাফিজ সরাফাত পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়ে আসার পর একটি কার্টুন আঁকেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। নাফিজ সরাফাতকে চিত্রায়িত করা ওই কার্টুনে নাভির জায়গায় দেখা যায় ব্যাংকের প্রতীক সিন্দুকের হাতল। তাতে ক্যাপশন ছিল, ‘আমি চৌ নাফিজ সরাফাত/ জানি ব্যাংক খাওয়ার ধারাপাত!’ ২০২০ সালের ২ মে কার্টুনিস্ট কিশোর ও ৪ মে কার্টুনের ক্যাপশন লেখক মুশতাক আহমেদকে তুলে নেওয়া হয়।


৫ মে গ্রেপ্তার দেখানোর পর ১০ মাসে ছয়বার তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ হয়। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান মুশতাক আহমেদ। পরের মাসে জামিন পান কিশোর। এরপর গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোর বলেছিলেন, নির্যাতনের সময় একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে নিয়ে কার্টুন আঁকার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।


দুজনকে নির্যাতনের পেছনে আপনার দায় আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘তাঁদের কাউকেই চিনতাম না। কার্টুন আঁকা হয়েছে অনেককে নিয়ে, আমাকে নিয়ে ছিল একটা। সংস্থার লোকেরা অতি উৎসাহী হয়ে কাজটি করতে পারে।’


‘আমি চৌ নাফিজ সরাফাত/ জানি ব্যাংক খাওয়ার ধারাপাত!’ ২০২০ সালের ২ মে কার্টুনিস্ট কিশোর ও ৪ মে কার্টুনের ক্যাপশন লেখক মুশতাক আহমেদকে তুলে নেওয়া হয়।

 

সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মুষ্টিমেয় লোককে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে পুঁজি লুণ্ঠনের সুযোগ করে দেওয়া যে পদত্যাগী শেখ হাসিনা সরকারের বৈশিষ্ট্য, তা আমাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে। নাফিজ সরাফাত তাঁদেরই একজন। এসব লুণ্ঠনকারীর কাছ থেকে যে সুবিধা নিয়েছেন শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজন, তা অনুমান করা যায়।’


মইনুল ইসলাম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে নাফিজ সরাফাতসহ এ ধরনের সবার ব্যাপারে যথাযথভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।  

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...