Thursday, May 30, 2024

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: ‘চক্রে’ ঢুকে চার সংসদ সদস্যের ব্যবসা রমরমা

 

    

বিদেশে কর্মী পাঠাতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নেন ফেনী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড। 


লাইসেন্স নেওয়ার সাড়ে তিন বছরে মাত্র ১০০ কর্মী বিদেশে পাঠায় তারা। অবশ্য ‘মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে’ বা চক্রে যোগ দেওয়ার পর গত দেড় বছরে দেশটিতে প্রায় ৮ হাজার কর্মী গেছেন নিজাম হাজারীর এজেন্সির নামে। মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো এজেন্সির তালিকায় ৪ নম্বর স্থান পেয়েছে স্নিগ্ধা ওভারসিজ। 


নিজাম হাজারীর মতো আরও দুজন সংসদ সদস্য এবং একজন সংসদ সদস্যের পরিবারের দুজন সদস্যের রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে মালয়েশিয়া চক্রে। সেগুলো হলো ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠান আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল।


সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমেরী কামালের অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও মেয়ে নাফিসা কামালের অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল। ১৯৭৯ সালে মুস্তফা কামাল অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠা করেন। 


‘মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে’ বা চক্রে যোগ দেওয়ার পর গত দেড় বছরে দেশটিতে প্রায় ৮ হাজার কর্মী গেছেন নিজাম হাজারীর এজেন্সির নামে। মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো এজেন্সির তালিকায় ৪ নম্বর স্থান পেয়েছে স্নিগ্ধা ওভারসিজ। 

 

মালয়েশিয়া চক্র হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয় না। সুযোগটি পায় অল্পসংখ্যক এজেন্সি। শুরুতে চক্রের সদস্য ছিল ২৫টি এজেন্সি। পরে তিন ধাপে বেড়ে ১০০টি হয়েছে।


চক্রে নাম ঢোকাতে প্রতিটি এজেন্সির কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে। আর চক্রে থাকা এজেন্সিগুলো বসে বসে প্রতি কর্মীর বিপরীতে অন্তত দেড় লাখ টাকা ‘চক্র ফি’ পাচ্ছে। অবশ্য এ টাকার একটি অংশ চলে যায় মালয়েশিয়ার চক্র নিয়ন্ত্রকদের কাছে।


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ কর্মী পাঠায়। তবে বাংলাদেশ ছাড়া কোনো দেশে এমন চক্র-ব্যবস্থা নেই। 


এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া আপাতত বিদেশি কর্মী নেওয়া স্থগিত করেছে। ইতিমধ্যে যাঁরা মালয়েশিয়া যাওয়ার ভিসা পেয়েছেন, অনুমোদন পেয়েছেন, তাঁদের আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে। 


জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেই দুর্বিষহ, মানবেতর ও অমর্যাদাকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও জড়িত। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠান 

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) গত দেড় বছরে মালয়েশিয়া যেতে প্রায় সাড়ে চার লাখ কর্মীর ছাড়পত্র দিয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় এককভাবে শ্রমিক পাঠানোর শীর্ষে রয়েছে ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বায়রার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরী। 


ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিএমইটি বলছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যে আড়াই হাজারের মতো কর্মী পাঠিয়েছে। তবে মালয়েশিয়া চক্রে ঢুকে এই এজেন্সি একাই ছাড়পত্র নিয়েছে ৮ হাজার ৫৯২ কর্মীর।


মাসুদউদ্দিন চৌধুরী ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ফেনী-৩ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য হন। যদিও তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। রাজনীতিতে আলোচনা আছে যে আওয়ামী লীগের পরামর্শেই তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন। 


মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর দিক দিয়ে পঞ্চম অবস্থান রয়েছে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠান আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আগে তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম ছিল না। বিদেশে পাঠিয়েছিল মাত্র ২৩৮ কর্মী।


তবে মালয়েশিয়া চক্রে ঢুকে তারা শীর্ষ তালিকায় চলে যায়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গেছেন ৭ হাজার ৮৪৯ কর্মী। চক্র গঠনের সময় বেনজীর ছিলেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সভাপতি। 


বিভিন্ন এজেন্সি তাঁদের মাধ্যমে কর্মী পাঠিয়েছে। তবে সরকার-নির্ধারিত খরচের বাইরে তাঁরা কোনো বাড়তি টাকা নেননি। বায়রার নির্বাহী পরিচালক শাহেলা পারভীন


সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমেরী কামালের অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও মেয়ে নাফিসা কামালের অরবিটালস ইন্টারন্যাশনালের নামে মালয়েশিয়ায় গেছেন মোট ৯ হাজার ৮৬১ জন। চক্র গঠনের সময় আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।


মালয়েশিয়া চক্রে নাম থাকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে তিন সংসদ সদস্য ও এক সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি।


বায়রার ওয়েবসাইটে দেওয়া স্নিগ্ধা ওভারসিজের ফোন নম্বরে কল দিলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাহেলা পারভীন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এজেন্সি তাঁদের মাধ্যমে কর্মী পাঠিয়েছে। তবে সরকার-নির্ধারিত খরচের বাইরে তাঁরা কোনো বাড়তি টাকা নেননি। 


অবশ্য চক্রে না থাকা তিনটি এজেন্সির মালিকেরা বলেন, তাঁরা কর্মীর চাহিদা পেয়ে চক্রকে ফি দিয়ে তাঁদের নামে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়েছেন। প্রতি কর্মীর জন্য ১ লাখ ৫২ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে চক্রে থাকা এজেন্সিকে। 


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঐশী ইন্টারন্যাশনাল এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই দুটি প্রতিষ্ঠান চক্রের সক্রিয় সদস্য। 


বিরোধিতা করে নিজেরাই চক্রে

বায়রার সদস্যদের অভিযোগ, এবার চক্র তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন ওরফে স্বপন। চক্রের ১০০টি এজেন্সির মধ্যে ৬৯টির নাম তিনি ঠিক করেছেন।


তাঁর মাধ্যমেই টাকা লেনদেন হয়েছে মালয়েশিয়ায়। বিএমইটির হিসাবে দেখা যায়, স্বপনের এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের নামে মালয়েশিয়ায় ৭ হাজার ১০২ শ্রমিক গেছেন। এ বিষয়ে রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে নানাভাবে চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। 


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো চক্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ২০২২ সালে বায়রার নির্বাচনে জয় পায় মোহাম্মদ নূর আলী-মোহাম্মদ আবুল বাশার সমর্থিত প্যানেল। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশারের এজেন্সি নেই চক্রে।


তবে তাঁর ছেলে ইশতিয়াক আহমেদের এজেন্সি বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড ও জামাতা গোলাম রাকিবের নতুন এজেন্সি পিআর ওভারসিজ নাম লিখিয়েছে চক্রে। 


পিআর ওভারসিজ ২০২১ সালের অক্টোবরে লাইসেন্স নেয়। চার হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে তারা। 


বায়রার সভাপতি আবুল বাশার বলেন, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য ছেলে ও জামাতার এজেন্সিকে টাকার বিনিময়ে তালিকায় নাম দিয়েছে চক্র। বিরোধীরা পরে চক্রে যোগ না দিলে এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা যেত।


আবুল বাশারের ছেলে ইশতিয়াক আহমদ দাবি করেন, তালিকায় নাম দিতে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি। অন্যদিকে আবুল বাশারের জামাতা গোলাম রাকিব টাকা দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে ফোন কেটে দেন। 


এদিকে বায়রার শেষ নির্বাচনে জিতে সংগঠনটির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম আহমেদ চৌধুরী। যদিও পরে তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগেই তাঁর এজেন্সি সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল ঢুকে যায় চক্রে। 


নতুন আরও কিছু প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া চক্রে ঢুকে বিপুল কর্মী পাঠিয়েছে। ২০২১ সালের মার্চে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নেয় ইম্পেরিয়াল ওভারসিজ। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৪৪ জন কর্মী পাঠিয়েছিল তারা। তবে মালয়েশিয়ার চক্রে ঢুকে দেড় বছরে কর্মী পাঠিয়েছে ৭ হাজারের বেশি। 


চক্রে ঢুকেই ব্যবসা রমরমা

আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও এবার চক্রে ঢুকে কর্মী পাঠানো শীর্ষ এজেন্সির তালিকায় চলে এসেছে ঢাকা উত্তর সিটির ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (ভাটারা এলাকা) কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলামের এজেন্সি বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড। ৭ হাজার ২২৫টি ছাড়পত্র নিয়েছে তাঁর এজেন্সি। 

বায়রার একাধিক সদস্যের দাবি, চক্র তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়া রুহুল আমিনের সঙ্গে সখ্য আছে কাউন্সিলর শফিকুলের। তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করা হয়। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালের জুলাইয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে চক্রে নাম লেখান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁর প্রতিষ্ঠান অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি ২ হাজার ৬০০ কর্মীর ছাড়পত্র নিয়েছে। মুঠোফোনে ৪ মে তিনি বলেন, এটা নিয়ে সামনে বসে কথা বলতে হবে। অবশ্য দেখা করার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর ধরেননি। 

নতুন আরও কিছু প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া চক্রে ঢুকে বিপুল কর্মী পাঠিয়েছে। ২০২১ সালের মার্চে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নেয় ইম্পেরিয়াল ওভারসিজ। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৪৪ জন কর্মী পাঠিয়েছিল তারা। তবে মালয়েশিয়ার চক্রে ঢুকে দেড় বছরে কর্মী পাঠিয়েছে ৭ হাজারের বেশি। 

চক্র ফি দিয়ে ইম্পেরিয়ালের মাধ্যমে কর্মী পাঠিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দুটি এজেন্সি। এ নিয়ে কথা বলতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি সব শুনে এক ঘণ্টা পরে ফোন করতে বলেন। এরপর আর ফোন ধরেননি।  

 

নিজের অটোরিকশা ও স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে, মানুষের কাছে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব, ঋণগ্রস্ত।

নারায়ণগঞ্জের মো. সেলিম


২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য 

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সরকার-নির্ধারিত জনপ্রতি ব্যয় ৭৯ হাজার টাকা। যদিও নেওয়া হয় অনেক বেশি। 


২০২৩ সালের মে থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ৩৫৭ জন মালয়েশিয়াপ্রবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি জরিপ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভেরিটে ইনকরপোরেটেডসহ পাঁচটি সংস্থা। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়া যেতে গড়ে একজন বাংলাদেশি কর্মী খরচ করেছেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ৯৬ শতাংশ কর্মীকে অন্তত একটি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।


নারায়ণগঞ্জের মো. সেলিম গত বছর মার্চে মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রতিশ্রুত কাজ পাননি। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে তাঁকে পাইলিংয়ের কাজ দেওয়া হয়। পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। কোনো চিকিৎসা করায়নি কোম্পানি। প্রায় দেড় মাস অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থেকে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের টাকায় টিকিট কেটে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে আসেন। 


সেলিম বলেন, ‘নিজের অটোরিকশা ও স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে, মানুষের কাছে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব, ঋণগ্রস্ত।’ 


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেড় বছরে সাড়ে ৪ লাখের মতো লোক পাঠিয়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে এ খাতে। সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা করে চক্র ফি নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী ১১ মে বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট এজেন্সির তালিকা নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। কর্মী পাঠানো নিয়ে যেসব অভিযোগ আসছে, এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


অবশ্য বারবার চক্র গঠন ও শ্রমিকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও কখনোই ব্যবসা নেয়নি মন্ত্রণালয়। বরং ২০২২ সালেও চক্র গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 


মালয়েশিয়ায় শ্রমিকেরা বেকার

মালয়েশিয়ায় গিয়ে বেকার থাকছেন শ্রমিকদের অনেকে। সেটা সরকারও স্বীকার করে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, পাঁচ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ পাননি। তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


অবশ্য মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে থাকা বাংলাদেশিদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। কেউ কেউ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পণ্য বিক্রি করে খাবার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ বৃষ্টি হলে দোকান থেকে ছাতা কিনে রাস্তায় বিক্রি করেন। কেউ ছোটখাটো কাজ করে কোনোরকমে টিকে আছেন। 


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট এজেন্সির তালিকা নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। কর্মী পাঠানো নিয়ে যেসব অভিযোগ আসছে, এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী

এদিকে গত জানুয়ারি থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে সহায়সম্বলহীনভাবে খালি হাতে ফিরেছেন ৪৫৩ কর্মী। তাঁদের পাসপোর্টও ছিল না। ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে তাঁরা ফিরে এসেছেন। 

 

অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, শ্রমিকেরা যে দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে পড়বেন, সে আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও সেটা জানত। তারপরও চক্রের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজি হওয়া উচিত হয়নি।

Tuesday, May 28, 2024

Israeli tanks have reached the center of Rafah

 

    Israeli tanks

Israel has stepped up its attacks on Rafah in the Gaza Strip in defiance of the International Court of Justice (ICJ) order. Israeli tanks reached the center of Rafah for the first time on Tuesday. Eyewitnesses reported this. In addition, the Israeli forces have carried out extensive air strikes in the western part of Rafah.

Earlier on Sunday night, Israel carried out massacres in refugee tents in the declared safe zone in Rafah. At least 45 people, including 23 women, children and the elderly, were killed in an airstrike in Tal As-Sultan area. Many of the victims were burned alive. Children's bodies are dismembered.

This incident caused a storm of condemnation around the world. Various countries as well as the United Nations called for an end to the operation in Rafah in accordance with ICZ's order. At the request of Algeria, an emergency meeting of the UN Security Council was also called yesterday.

UN Secretary-General Antonio Guterres strongly condemned the attack on people sheltering in tents in Rafah. He said on social media X, "I condemn the Israeli actions in this incident of killing many civilians. These people only took refuge there to escape this deadly conflict. The UN Secretary General also said, "There is no safe place in Gaza." This horror must be stopped.

But the Israeli forces have increased the intensity of the attack in Rafah, ignoring the orders of ICZ and the global condemnation of Sunday's massacre. Eyewitnesses reported that Israeli tanks were seen near Al-Awda Mosque in central Rafah.

Israeli tanks have pushed further into West Rafah. Some tanks are positioned on hilly terrain in the Zurub area of ​​Western Rafah. Israeli forces are fighting there with Palestinian independence organizations including Hamas.

Witnesses said Israeli forces appeared to be using remote-controlled armored vehicles in Rafah. No immediate military presence was observed in or around some of the armored vehicles. However, a spokesman for the Israeli military did not comment on this.

Residents said earlier that there were airstrikes and shelling from tanks throughout Rafah throughout the night. Israeli forces have also carried out airstrikes in the western part of Rafah. Three Palestinians were killed. Apart from this, there were reports of attacks on people sheltering in tents yesterday. At least seven people were killed.

723 health workers were killed

According to Al-Jazeera's report, Israeli forces have attacked health care facilities in Gaza at least 450 times in the ongoing war. 723 health workers were killed. 924 people were injured. The World Health Organization has provided this information.

Meanwhile, the Ministry of Health of Gaza said that in the last 24 hours, 46 more people were killed by Israel's attack. Since October 7, 36 thousand 96 Palestinians have been killed in Israeli attacks.

বিদেশে বেনজীর পরিবারের সম্পদের খোঁজে দুদক

 

    বেনজীর আহমেদ

৬ জুন বেনজীর ও ৯ জুন তাঁর স্ত্রী-তিন মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।


পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানের নামে বিদেশে কোনো সম্পদ আছে কি না, সেই খোঁজও শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিদেশে সম্পদের খোঁজ নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। 


দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে বিএফআইইউ। সংস্থাটি ‘এগমন্ট গ্রুপ’ নামের একটি ফোরামের সদস্য। এই ফোরাম বিশ্বের ১৭০টি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যারা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করে। 


২০১৩ সালে এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পায় বিএফআইইউ। সংস্থাটির সূত্র জানায়, ওই গ্রুপে এক দেশ আরেক দেশের কাছে যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদ সম্পর্কে তথ্য চায়, তাহলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা সেই তথ্য সরবরাহ করে। সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমতি সাপেক্ষে তা আদালতে উপস্থাপন করা যায়। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা বলেন, বেনজীর আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। 


এদিকে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। সূত্র জানায়, আগামী ৬ জুন বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা ও তিন মেয়েকে ডাকা হয়েছে ৯ জুন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল সংস্থাটির অনুসন্ধান দল। গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় কমিশন। পরে বেনজীর ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের তলব করা হয়। 


দুদক কমিশনার জহিরুল হক গতকাল বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়, তাঁর বক্তব্য জানতে হয়। আইনও সেটা বলে। 


দুদক বিভিন্ন সংস্থাকে বেনজীর পরিবারের সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য আসছে। এখন পর্যন্ত বেনজীর পরিবারের ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) পেয়েছে দুদক। আদালতের আদেশে এসব সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। 


দুদক সূত্র বলছে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর পরিবারের সম্পদ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তারা। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সূত্রে তারা কিছু তথ্যও পেয়েছে। সম্পদ আছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে বিএফআইইউকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 


বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাঁদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন। 


বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি করে দুদক। 


বিএফআইইউর একটি সূত্রের দাবি, সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানের বিষয়টি আগেই টের পেয়ে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ফলে যে ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলোতে তেমন কোনো অর্থ নেই। 


দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদ জব্দের বিষয়ে বেনজীর আহমেদের মুঠোফোনে গতকাল যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। গত সোমবার এই প্রতিবেদক যান রাজধানীর গুলশানের র‍্যানকন আইকন টাওয়ারে, যেখানে বেনজীর পরিবারের চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যদিও বেনজীর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 


বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে চলে যাওয়া ঠেকাতে দুদক আদালতে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পরে সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি অনুসন্ধানকারী দল মনে করে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে যাওয়া রোধ করা দরকার, তাহলে আদালতে আবেদন করতে পারে।

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ২

 

    মাহাবুবুল হাসান

নরসিংদী সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হাসানকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন সঙ্গে থাকা দুই কর্মী। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


মাহাবুবুল হাসানের বাড়ি ভগীরথপুর এলাকায়। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন নিহত মাহাবুবুল হাসানের কর্মী সাঈদ হাসান (৩৮) ও ফরহাদ মিয়া (৩৭)। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মেহেরপাড়ার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার অমিতকে (প্রান্ত) দায়ী করছেন নিহত ব্যক্তির কর্মী-সমর্থকেরা।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার অমিতের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।


স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত একদল কর্মীকে নিয়ে মেহেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছিলেন মাহাবুবুল হাসান। পরে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ৯ জন কর্মীর সঙ্গে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ওই কার্যালয় থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ।


নিহত মাহাবুবুল হাসানের সঙ্গে থাকা কর্মী রবিউল হাসান ও অপু মিয়া বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে ইউনিয়নটির বর্তমান চেয়ারম্যান আজাহার অমিতের ব্যক্তিগত কার্যালয়সংলগ্ন ওবায়দুল্লাহ টেক্সটাইল মিলের সামনে যাওয়ার পরপরই এ হামলার ঘটনা ঘটে।


আহত অবস্থায় তিনজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহাবুবুল হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুলিবিদ্ধ সাঈদ ও ফরহাদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ হত্যার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ভগীরথপুর এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এনএসআই কর্মকর্তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবেই শতকোটি টাকা লেনদেন, দুদকের মামলা

 

    সাভারের বিরুলিয়ায় পুকুরপাড় এলাকায় এনএসআই কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের সাড়ে ছয়তলা বাণিজ্যিক ভবন।

এনএসআই কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ। তাঁর স্ত্রীরও এমন সম্পদ পেয়েছে দুদক।


জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) একজন কর্মকর্তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে ১৫ বছরে জমা হয় ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। একই সময়ে তুলে নেওয়া হয় ১২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যবসা দেখানো হলেও ব্যাংকিং লেনদেন করেছেন স্বামী।


ঢাকায় এই দম্পতির আছে একাধিক ফ্ল্যাট, দোকান ও জমি। ঢাকার বাইরে নাটোরে আছে বাড়ি ও জমি। কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপেও জমি কেনা হয়েছে। সাভারের বিরুলিয়ায় আছে সাড়ে ছয়তলা বাণিজ্যিক ভবন।


এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা তো মানুষের ওপর নজরদারি করেন। তাঁদের কর্মকর্তারা কোনো অপরাধে জড়াচ্ছেন কি না, সেটিও নজরদারি করা উচিত।

ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি


এত সম্পদের মালিক এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক আকরাম হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া পারভীন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালিয়ে তাঁদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়ে দুজনের নামে মামলা করেছে।


বর্তমানে এনএসআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আকরাম হোসেনের নামে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া তিনি দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের বিবরণীতে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর সুরাইয়ার প্রায় ২১ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।


দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, আকরাম হোসেন ও সুরাইয়া পারভীনের নামে ২১ মে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বর্তমানে এনএসআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আকরাম হোসেনের নামে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

 

দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আকরাম হোসেন এনএসআইয়ের পরিচালকদের সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন তৈরির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয় দুদক।


নাটোরের নওপাড়ার বাসিন্দা আকরাম ১৯৮৯ সালে নিম্নমান সহকারী হিসেবে এনএসআইয়ে যোগ দেন। আট বছর পর বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে মাঠ কর্মকর্তা (জুনিয়ার ফিল্ড অফিসার) হন।


২০১৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক হন। দুদক ২০২০ সালে আকরাম ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আকরাম ২০০২ সালে প্রথম নাটোরে ২৪ শতাংশ জমি কেনেন।


এরপর বিভিন্ন সময় স্ত্রী ও নিজের নামে ঢাকার দক্ষিণখানে আড়াই শতাংশ, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ২০ শতাংশসহ মোট প্রায় ২০৮ শতাংশ জমি কিনেছেন। সবচেয়ে বেশি জমি কিনেছেন ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে।


আকরাম হোসেন ও সুরাইয়া পারভীনের নামে ২১ মে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মশিউর রহমান, দুদকের উপপরিচালক

অস্বাভাবিক লেনদেন

আকরাম অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়ার নামে ২০০৮ সালে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলেন। কিন্তু সেই ব্যবসার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মোট ২৫টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুরাইয়ার ব্যবসার যে আকার, তাতে এত টাকা লেনদেন করা অস্বাভাবিক।


দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকায় সুরাইয়া পারভীনের মোট ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ টাকা জমা হয়। একই সময় এই হিসাবগুলো থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ১২৫ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ টাকা; যা অস্বাভাবিক।


এজাহারে আরও বলা হয়, ‘স্টার ইলেক্ট্রা ওয়ার্ল্ড’ ও ‘লিরা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড’ নামে দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সুরাইয়ার নামে দেখানো হলেও ব্যবসাসহ ব্যাংকিং লেনদেন করেন তাঁর স্বামী আকরাম হোসেন।


দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকায় সুরাইয়া পারভীনের মোট ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ টাকা জমা হয়।

 

সাভারে বাণিজ্যিক ভবন

সাভারের বিরুলিয়ার পুকুরপাড় এলাকায় ২০১৫ সালে আকরাম ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ জায়গা কেনেন। সেখানে সাড়ে ছয়তলা ভবন বানানো হয়েছে। ভবনটির নাম ‘স্টার কমপ্লেক্স’। একতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা ‘মেসার্স স্টার ইলেক্ট্রা ওয়ার্ল্ডের’ কারখানা গড়ে তোলেন। এই কারখানায় বৈদ্যুতিক পাখা, বাতিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী তৈরি করা হয়।


ওই ভবন তৈরি করতে ৪ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা খরচ করেছেন বলে দুদকে তথ্য দেন আকরাম। তবে দুদক অনুসন্ধানে জেনেছে, ভবনটি নির্মাণে খরচ করা হয়েছে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি। এ ক্ষেত্রে আকরাম প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা খরচের তথ্য গোপন করেছেন।


সম্প্রতি বিরুলিয়ায় গিয়ে কথা হয় ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আফজাল প্রামাণিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভবনের মালিক আকরাম নামের এক ব্যক্তি। ভবনটির পাঁচতলা পর্যন্ত এখন খালি রয়েছে। শুধু ছয়তলায় পোশাক তৈরির একটি কারখানাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।


ভবনটির বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। জানা গেল, মূলত বিদেশ থেকে সরঞ্জাম এনে স্টার ইলেক্ট্রা ওয়ার্ল্ডে ইলেকট্রনিক সামগ্রী তৈরি করা হতো। শুরুর দিকে কারখানায় অনেক মানুষ কাজ করতেন।


স্থানীয় এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভবনের মালিক একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি প্রতি শুক্রবার একটি গাড়ি নিয়ে এখানে আসেন। কয়েক ঘণ্টা থেকে আবার ফিরে যান।


আকরাম হোসেন দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের বিবরণীতে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া পারভীনের প্রায় ২১ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।


ঢাকায় ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্থান

মিরপুরের সেনপাড়া এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন আকরাম। ‘মেগা হারবর’ নামের ভবনের তৃতীয় তলায় ২২ লাখ টাকা দিয়ে ২০১৫ সালে আকরাম ও তাঁর স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়।


সম্প্রতি সেনপাড়ার ওই ভবনে গিয়ে কথা হয় ভবনের ব্যবস্থাপক আলতাফ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই সন্তান নিয়ে আকরাম এই বাসায় থাকেন। তাঁর স্ত্রী ব্যবসা করেন কি না, জানতে চাইলে আলতাফ বলেন, ‘ম্যাডাম তো বাসায় থাকেন। তাঁকে খুব বেশি বাইরে যেতে দেখি না।’


ভবনের নিরাপত্তাকর্মী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্যারের (আকরাম) একটি গাড়ি আছে। পরিবার নিয়ে কোথাও গেলে গাড়িটি ব্যবহার করেন। তবে অফিসে যাওয়া-আসার জন্য একটি মোটরসাইকেল আছে স্যারের।’


দুদক অনুসন্ধানে জেনেছে, মিরপুরে একই এলাকায় আকরামের নামে ১০০ বর্গফুটের একটি দোকান রয়েছে। আর সুরাইয়ার নামে একই এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ও ১ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা রয়েছে।


আকরাম হোসেনের সঙ্গে ৮ মে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি দাবি করেন, তাঁর নিজের ও স্ত্রীর নামে থাকা সব সম্পদ বৈধ। স্ত্রীর ব্যবসার আয় থেকে তিনি এসব সম্পদ করেছেন, যার সবকিছুই আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে হয়রানি করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নতুন নয়।


এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন, সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা তো মানুষের ওপর নজরদারি করেন। তাদের কর্মকর্তারা কোনো অপরাধে জড়াচ্ছেন কি না, সেটিও নজরদারি করা উচিত।

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...