Thursday, November 30, 2023

যুক্তরাষ্ট্রে শিখ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ভারতীয় কর্মকর্তা: মার্কিন কৌসুলি

 

    শিখ আন্দোলনের নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন

আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ভারতের বিড়ম্বনা বেড়ে চলেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক খালিস্তান আন্দোলনের এক নেতাকে হত্যায় ভারতের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এবার আরেক নেতাকে হত্যাচেষ্টায় ভারতের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ হাজির করেছে যুক্তরাষ্ট্র।


শিখ নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে নিখিল গুপ্ত নামের এক ভারতীয়সহ এক পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার তারা জানিয়েছে, এই বছরের জুনে নিখিলকে চেক প্রজাতন্ত্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পান্নুন ভারত সরকারের নিষিদ্ধঘোষিত খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’(এসএফজে)-এর নেতা।


যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘তথ্য’ প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের উদ্দেশে নতুন বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা খবর বুঝিয়ে দিচ্ছে, আমরাও সেদিকে শুরু থেকে আলোকপাতের চেষ্টা করেছি। বোঝাতে চেয়েছি, ভারতের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। তাদের উচিত, এই সমস্যা নিয়ে আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করা, যাতে বিষয়টির গভীরে যাওয়া যায়।’


যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর ড্যামিয়ান উইলিয়ামস এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিউইয়র্কে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিককে হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছিল। সেটা করা হয়েছিল ভারতে বসে। যাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তিনি এক শিখ সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতা।


কিছুদিন আগে এই চক্রান্ত ফাঁসের খবরটি নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল যুক্তরাজ্যের ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ পত্রিকা। তারা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ওই চক্রান্ত বানচাল করে দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে এ কথাও বলা হয়েছিল, ওই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছেন।


প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভারত সরকার সেটিকে অবশ্য ‘আজগুবি’ বলে উড়িয়ে দেয়নি। কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এ কথাও বলা হয়, তারা ভারতের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনাও করেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বলা হয়েছিল, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টু প্লাস টু আলোচনায় সংগঠিত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মতবিনিময় হয়েছে। কিছু তথ্যের আদান-প্রদানও হয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের পক্ষেই উদ্বেগের। সেই বিবৃতিতে খালিস্তানি আন্দোলন অথবা পান্নুন হত্যা চক্রান্ত বানচাল নিয়ে কোনো মন্তব্য অবশ্য ছিল না।


সেই বিবৃতির পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু ভারত এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো মন্তব্য করেনি। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ হওয়ার ঠিক আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভারত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করেছে।


ভারতের এই বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যাতে চেক প্রজাতন্ত্রে নিখিল গুপ্তকে গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।


ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটর দপ্তরের দাবি, পান্নুন হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার নিখিল গুপ্তার বয়স ৫২। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের বার্তা দেওয়ার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। নিখিল সেই কাজ ভারত সরকারের কোনো এক সংস্থার এক পদস্থ কর্মীর নির্দেশে করছিলেন। ভারত সরকারের সেই কর্তার নাম ও পরিচয় কিন্তু জানানো হয়নি।


নিখিল ভারতেই বসবাস করতেন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পান্নুনকে হত্যার জন্য গত মে মাসে ভারত সরকারের ওই কর্মকর্তা নিখিলকে নিয়োগ দেন। সেই কর্তা নিজেকে জ্যেষ্ঠ মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করতেন। একটা সময় তিনি ভারতের আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ-এও কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজেকে ‘সিসি১’ বলে ডাকতে বলেছিলেন।


যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পান্নুনকে হত্যার জন্য আততায়ীর সন্ধান পেতে নিখিল এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মাদক বিভাগের একজন ‘আন্ডার কভার এজেন্ট’। সেই ব্যক্তি একজন সম্ভাব্য আততায়ীর সঙ্গেও নিখিলের যোগাযোগ ঘটিয়ে দেন। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য রফা হয়েছিল মোট ১ লাখ ডলার। অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল ১৫ হাজার ডলার।


যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগে কানাডায় নিহত হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও রয়েছে। বলা হয়েছে, নিখিল নাকি সম্ভাব্য আততায়ীকে বলেছিলেন, নিজ্জরও তাঁদের টার্গেট। এমন আরও অনেক টার্গেট আছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই অভিযোগ, নিখিল গুপ্তার গ্রেপ্তার, ‘সিসি১’-এর সংশ্লিষ্টতা ইত্যাদি বিষয়েই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে বিদেশি নাগরিককে হত্যা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো এমন গুরুতর অভিযোগ এর আগে কোনো দেশ করেনি।

৪৬তম বিসিএসে বেশি পদ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনে, বিকেলে বিজ্ঞপ্তি

 

    বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন

৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আসছে আজই। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এ নিয়ে কয়েক দফা সভা করেছে। সেখানে এই বিসিএসের পদ সংখ্যা নিয়ে কথা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি আজই আসছে বিষয়টি একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


সভা সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩ হাজার ১০০ ক্যাডার পদে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এতে বিসিএস সহকারী সার্জন ১ হাজার ৬৮২ জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ১৬ জন নেওয়া হবে। এরপর পরই সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। বিভিন্ন বিষয়ে এই ক্যাডার থেকে বিসিএস শিক্ষায় ৯২০ জনকে নেওয়া হবে। বিসিএস প্রশাসনে ২৭৪, পররাষ্ট্রে ১০, পুলিশে ৮০, আনসারে ১৪, বিসিএস পরিবার পরিকল্পনায় ৪৯, মৎস্যে ২৬ ও গণপূর্ত ৬৫ জনসহ মোট ৩ হাজার ১০০ জনকে নেওয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বয়স গণনা শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে। বিসিএসে আবেদনের সময় সঠিক তথ্য নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে পিএসসি।

মাঝ আকাশে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ

 

    লুফথানসার ফ্লাইট

মাঝ আকাশে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে একটি উড়োজাহাজ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। ওই দুই যাত্রীর যন্ত্রণায় মিউনিখ থেকে ব্যাংককগামী লুফথানসার ওই ফ্লাইট গতকাল বুধবার দিল্লিতে জরুরি অবতরণ করাতে হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, উড়োজাহাজে ৫৩ বছর বয়সী এক জার্মান নাগরিক তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে চিৎকার শুরু করেন। ঝগড়ার একপর্যায়ে লাইটার দিয়ে একটি কম্বল পোড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে ওই দম্পতিকে নামিয়ে দেওয়া হয়।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, জার্মান ওই নাগরিকের স্ত্রী থাই নাগরিক। মাঝ আকাশে তাঁদের মধ্যে তর্ক শুরু হলে পাইলট নয়াদিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন।


একজন কর্মকর্তা বলেছেন, উড়োজাহাজটি গতকাল সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে আইজিআই বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানানো হয়। পরে ওই দম্পতিকে সিআইএসএফ ও অভিবাসন কর্মকর্তারা নামিয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি দিল্লি পুলিশের নজরে আনা হয়নি। বিমানবন্দরের টার্মিনালেই এর সমাধান করা হয়েছে।


ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, উড়োজাহাজে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া শুরুর পর ওই স্ত্রী কেবিন ক্রুদের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। এই অভিযোগের পর তাঁদের দুজনকেই মিউনিখে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি মদ্যপ ছিলেন। ক্রুরা অভিযোগ করেছিলেন, ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে চিৎকার করে ঝগড়া করছিলেন। তিনি স্ত্রীর দিকে খাবার ছুড়ে ফেলেন এবং একপর্যায়ে লাইটার দিয়ে একটি কম্বল পোড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। উড়োজাহাজের কর্মীরা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে উড়োজাহাজটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়।

এ বিষয়ে লুফথানসা এয়ারলাইনস একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতিতে এয়ারলাইনসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘উড়োজাহাজে থাকা এক যাত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে ফ্লাইটটি দিল্লির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যাংককের ফ্লাইটটি পরে সামান্য দেরি করে যাত্রা শুরু করেছে। আমাদের যাত্রী ও ক্রুদের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।’

Tuesday, November 28, 2023

ইউক্রেনের গোয়েন্দাপ্রধানের স্ত্রীকে বিষ প্রয়োগ

 

    ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিরিলো বুদানভ ও তাঁর স্ত্রী মারিয়ানা বুদানভা

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর (জিইউআর) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিরিলো বুদানভের (৩৭) স্ত্রী মারিয়ানা বুদানভার (৩০) শরীরে বিষপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। জিইউআরের মুখপাত্র আন্দ্রি ইউসভ স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন।


ইউসভ জানান, তাঁদের বাহিনীর আরও বেশ কয়েকজন সদস্যের মধ্যে বিষক্রিয়ার হালকা লক্ষণ দেখা গেছে। তবে মারিয়ানার শরীরে ভারী কোনো ধাতু দিয়ে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁকে একটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


এদিকে এ ঘটনার পেছনে রাশিয়ার কোনো হাত রয়েছে কি না, তা ইউক্রেনের কোনো গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়নি। এমনকি জেনারেল কিরিলো বুদানভও এ ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কি না, তা–ও উল্লেখ করা হয়নি।


মারিয়ানার শরীরে যে ভারী ধাতু দিয়ে বিষয় প্রয়োগের কথা সন্দেহ করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে যে পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছে, তা প্রাত্যহিক জীবনে বা সামরিক অভিযানেও ব্যবহৃত হয় না।


ইউক্রেনের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইউক্রেনস্কা প্রাভদার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মারিয়ানার বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গণমাধ্যমটি তাদের নিজস্ব সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সম্ভবত বিষাক্ত খাবারের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি এখন ‘কিছুটা ভালো বোধ’ করছেন।


কিয়েভভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইউনিয়ান তাদের নিজস্ব সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মারিয়ানা ইউক্রেনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁকে বিদেশে নেওয়া হয়নি।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে শুরু করা রাশিয়ার সামরিক অভিযানের গোড়া থেকেই তৎপর রয়েছেন বুদানভ। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা দ্য মেইন ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্সের (ডিআইইউ) নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। রাশিয়ায় চালানো ইউক্রেনের সব সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার পেছনে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে ডিআইইউর।


এমনকি রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কখনো কখনো বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ভালোই লক্ষ্যবস্তুতে বুদানভ রয়েছেন বলে মনে করা হয়। যেমন চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনস্কা প্রাভদাকে মুখপাত্র ইউসভ বলেন, এ পর্যন্ত ১০ বারের বেশিবার জেনারেল বুদানভকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।


গত সেপ্টেম্বরে ওয়ার জোন ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল বুদানভ বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে মারিয়ানা তাঁর (বুদানভ) কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। মনোবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর করা মারিয়ানা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি কিয়েভের মেয়রের উপদেষ্টা ছিলেন।


২০২০ সালে সাময়িকী এলিকে এক সাক্ষাৎকারে মারিয়ানা জানিয়েছেন, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি কিয়েভের সামরিক হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছেন।

দেশের ৫৬ জেলায় বিএনপির কার্যালয় বন্ধ

 

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলছে গত ২৮ অক্টোবর রাত থেকে। গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে

ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকার এক মাস পেরিয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এখনো তা বন্ধ।


শুধু কেন্দ্রীয় নয়, দলটির জেলা কার্যালয়গুলোর বেশির ভাগ তালাবদ্ধ। সেগুলো কবে খোলা যাবে, কবে নেতা-কর্মীরা আবার আগের মতো আনাগোনা শুরু করবেন, তা কেউ জানেন না।


দেশের ৬৪টি জেলায় গত দুই দিনে বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে, খোঁজ নিয়ে এবং দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দলটির ৫৬টি জেলা কার্যালয়ই বন্ধ। চারটি জেলায় দলের কার্যালয় নেই। খোলা আছে চারটি।


বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাহারা, টহল অথবা গোয়েন্দাদের তৎপরতা থাকে। গেলেই গ্রেপ্তারের ভয় আছে। নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে। ফলে কার্যালয় খোলা হয় না।


৬৪ জেলাসহ বিএনপির সাংগঠনিক জেলা মোট ৮২টি। বিভাগীয় শহরগুলোর মহানগর কার্যালয় যেমন আছে, তেমনি রয়েছে জেলা কার্যালয়। কোথাও কোথাও বড় জেলা সাংগঠনিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত। ৮০টি সাংগঠনিক জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭২টির কার্যালয়ই বন্ধ (কোথাও কোথাও জেলা ও মহানগর কার্যালয় একই ভবনে অথবা একই কার্যালয়ের ভেতরে)। চারটিতে দলের কার্যালয় নেই, চারটিতে খোলা (আগে উল্লেখ করা জেলা কার্যালয়)।


যে চার জেলায় বিএনপির কার্যালয় খোলা পাওয়া গেছে তা হলো ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর। তবে এসব কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা খুবই কম। জেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে তাঁরা সেখানে যান না।


কার্যালয়গুলোর বেশির ভাগ বন্ধ রয়েছে গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে, যেদিন ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশের অভিযানে পণ্ড হয়ে যায়। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের এক সদস্যসহ দুজন নিহত হন। এরপর পুলিশ সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ২৮ অক্টোবরের ওই মহাসমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি।

    বিএনপির চট্টগ্রাম কার্যালয় নেতা-কর্মীশূন্য। গতকাল নূর আহমদ সড়কে


পুলিশ ও আদালত সূত্রের খবর এবং প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে গত এক মাসে ৯ হাজার ৭০০ জনের বেশি বিএনপির নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সক্রিয় কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই কারাগারে। বাকিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। জেলা পর্যায়েও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের অনেকে কারাগারে, বেশির ভাগ আত্মগোপনে। বিএনপির হিসাবে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৭ হাজারের কিছু বেশি।


১৯৭৭ সালে জাগদলের (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল) মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর এত মামলা ও অত্যাচার তিনি কখনো দেখেননি। এমনকি এরশাদের সামরিক শাসনের সময়ও নয়। তিনি বলেন, পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে না পেলে স্বজনদের ধরে আনছে। বাড়িতে বাড়িতে হামলা করছে মুখোশধারী ও ‘হেলমেট’ বাহিনী।


সেলিমা রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে যেতে পারছেন না। তবে কাজ করছেন। এই অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন আসবে।


কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালার এক মাস


২৮ অক্টোবর দুপুরে মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর ওই দিন রাতেই ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, তারা তালা দেয়নি। বিএনপির দাবি, পুলিশই তালা দিয়েছে।


পুলিশ গত ২৯ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কড়া পাহারা বসায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কার্যালয়টির সামনে ‘ডু-নট ক্রস-ক্রাইম সিন’ লেখা হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখে। দুই দিন পর দুই পাশে বসানো হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। ১৪ নভেম্বর ব্যারিকেড সরানো হয়। তবে এখনো বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত পুলিশি পাহারা ও গোয়েন্দাদের উপস্থিতি থাকে।


সরেজমিনে গতকাল দেখা যায়, বিএনপির কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক তালাবদ্ধ। ভেতরে তিনটি প্লাস্টিকের চেয়ার। একটির ওপরে আরেকটি রাখা। তার ওপর কয়েকটি পত্রিকা। সেসব পত্রিকা ও চেয়ারে ধুলার আস্তর জমেছে।


বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের পল্টন থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, কাউকে তালা খুলতে বা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখেননি তিনি।


জেলায় জেলায় কার্যালয়ে তালা

   খুলনায় বিএনপির কার্যালয়ে তালা। গতকাল নগরের কে ডি ঘোষ সড়কে

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৪টিতে বিএনপির স্থায়ী বা অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। ছয়টি জেলায় কার্যালয় হিসেবে বিএনপির কোনো নেতার বাসা অথবা অফিসকে ব্যবহার করা হয়। চারটিতে কোনো কার্যালয় নেই।


বিএনপির কার্যালয় ও কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত নেতাদের স্থাপনায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো কোনোটি বন্ধ এক মাস ধরে। কোনোটি বন্ধ আরও বেশি সময় ধরে। কিছু কার্যালয় সম্প্রতি স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের পর থেকে বন্ধ রয়েছে।


২৮ অক্টোবরের পর থেকে মাগুরা জেলা বিএনপির কার্যালয় বন্ধ। কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৮ তারিখের পর তিন দিন অল্প সময়ের জন্য কার্যালয়ের তালা খোলা হয়েছিল। পুলিশ তাঁদের কার্যালয় খুলতে নিষেধ করেছে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ রয়েছে, আপনারা কেন খুলছেন?’


অবশ্য জেলা পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খোলা বা বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


খুলনা শহরের কে ডি ঘোষ রোডে মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয়। সেটি এক মাস ধরে তালাবদ্ধ। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘মামলা থেকে কেউ বাদ নেই। আমাদের অফিস থানার পাশেই। কার্যালয় থেকে নামলেই গ্রেপ্তার করা হবে।’


নড়াইল জেলা বিএনপির কার্যালয়টি তিন মাস ধরে বন্ধ বলে দাবি করেছেন দলের নেতারা। তাঁরা বলছেন, বিগত পাঁচ বছরে চারবার কার্যালয়টি খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কার্যালয় খোলা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কার্যালয় খোলা হলে সরকারি দলের লোকজন তালা মেরে দেয়।


২৮ অক্টোবরের পরও ফেনী শহরের ইসলামপুর সড়কে বিএনপির জেলা কার্যালয় খোলা ছিল। বন্ধ হয়ে যায় ১১ নভেম্বর থেকে। কারণ, তখন থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কার্যালয় এলাকায় টহল দিতে থাকে। পুলিশও তৎপরতা বাড়িয়েছে।


নোয়াখালী জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বাসভবন। শহরের ফকিরপুরের সেই বাসভবনে গিয়ে গতকাল দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে।


জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী আবদুর রহমান বলেন, নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে কারাগারে। তাই কার্যালয় আপাতত বন্ধ।


কার্যালয় খোলা, কর্মীরা যান কি


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয় খোলা হয়। সেখানে পুরুষ নেতা-কর্মীরা যান না বললেই চলে। তবে নারী নেতা-কর্মীরা যান। মাঝেমধ্যে তাঁরা মিছিলও করেন।


পঞ্চগড় জেলা বিএনপির কার্যালয় খোলা থাকে। কর্মসূচি উপলক্ষে সেখানে নেতা-কর্মীরা যান। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই বিএনপির কার্যালয়ে যাচ্ছি এবং অবস্থানও করছি।’


কুষ্টিয়া বিএনপির জেলা কার্যালয় সকাল ও বিকেলে দুই দফায় কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলেন একজন কর্মী। তবে কোনো নেতা-কর্মী সেখানে যান না।


মেহেরপুরে বিএনপির কার্যালয় খোলা থাকে। তবে স্থানীয় বিএনপির প্রথম সারির নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ মুঠোফোনে বলেন, আত্মগোপনে থেকে তাঁরা আন্দোলন পরিচালনা করছেন।


‘এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হতে পারে না’

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ এবং তার জোটসঙ্গী ও মিত্ররা ভোটমুখী। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশির ভাগ সক্রিয় নেতা হয় কারাগারে, নয় আত্মগোপনে।


বেছে বেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটছে। গত ছয় সপ্তাহে সাত জেলায় অন্তত ৯৩ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। দুই মাসের কিছু বেশি সময়ে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অন্তত ১৮টি গুপ্ত হামলা হয়েছে।


লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা, তা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এক পক্ষকে রাজনীতির মাঠ থেকে বিদায় করে আয়োজিত নির্বাচন কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এটা কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হতে পারে না।

Monday, November 27, 2023

ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে

 

    

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশে ডলারের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখনো কাটেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের যে হিসাব গত সপ্তাহে প্রকাশ করছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ তার চেয়ে অনেক কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ এখন ১৬ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের কম।


ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২ সাল থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও পরিবহন খাতে খরচ বেড়ে যায়। ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের আমদানি খরচ আগের তুলনায় অনেক বাড়ে। তবে সে তুলনায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়েনি। এতে আমদানির জন্য ডলারের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, তা চাপ তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। কারণ, জরুরি জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।


আইএমএফও সঠিকভাবে রিজার্ভের হিসাবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম।

গত ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার (৪৮ বিলিয়ন)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে তা কমে হয়েছে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ডলার (২৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার)। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৯৫২ কোটি ডলার (১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার)। গত বুধবার ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই অর্থের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। আইএমএফও সঠিকভাবে রিজার্ভের হিসাবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, রিজার্ভ এখন যে পর্যায়ে নেমেছে, তা সংকটজনক না হলেও উদ্বেগজনক। ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের আমদানি দায় মেটানো যাবে। এটাও ধরে রাখা হয়েছে জোর করে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। তা না হলে আরও কমে যেত। এখন আর কৃত্রিমভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করার প্রয়োজন নেই। এই বাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে। তাহলে দাম কিছুটা বেড়ে পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তখন রিজার্ভ আবার বাড়বে।


মুস্তফা কে মুজেরী আরও বলেন, এখন খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কেউ না কেউ এই দামে ডলার কিনছে, এই দামে হুন্ডি করছে। বৈধ পথে পুরো প্রবাসী আয় দেশে আসছে না। যার মাধ্যমে আবার অর্থ পাচার হচ্ছে। আবার অন্য মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছে। পাচারের অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগে সরকার সফল হয়নি, পাচারও ঠেকাতে পারেনি। ফলে অর্থনীতিতে সংকট এখন বহুমুখী। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এই সংকট সহসা কাটার সম্ভাবনা নেই।


রিজার্ভের হিসাব

বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর ৭/অ ধারার বলে বৈদেশিক মুদ্রার ধারণ ও ব্যবস্থাপনার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার দায় অর্থাৎ আমদানি দায় পরিশোধের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে রিজার্ভ। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রীতি অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশের হাতে তিন মাসের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোর মতো মজুত থাকতে হয়।


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা তথ্যে জানানো হয়েছে, গত বুধবার পর্যন্ত বিপিএম৬ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। সেদিন মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। গত সপ্তাহে রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেলেও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা আবার বেড়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের অর্থ বিদেশে বিভিন্ন বন্ড, মুদ্রা ও স্বর্ণে বিনিয়োগ করে রেখেছে।


২০০১-০২ অর্থবছর পর্যন্ত রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারের (২০০ কোটি ডলার) স্তর ছুঁতে পারেনি। তবে এরপর ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বৈশ্বিক মন্দা হলে রিজার্ভ সাত বিলিয়ন থেকে কমে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

 

বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ১৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার দেখানো হলেও দেশের ব্যবহারযোগ্য বা প্রকৃত রিজার্ভ আরও কম। কারণ, ওই রিজার্ভ থেকে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ২০০ কোটি ডলারের বেশি, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা ১০০ কোটি ডলারের বেশি এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর বিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার বাদ যাবে। ফলে এসব দায় বাদ দিলে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়ায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্যে আইএমএফের দায় দ্রুত পরিশোধ করার চাপ নেই।


বাংলাদেশে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে তা ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০০১-০২ অর্থবছর পর্যন্ত রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারের (২০০ কোটি ডলার) স্তর ছুঁতে পারেনি। তবে এরপর ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বৈশ্বিক মন্দা হলে রিজার্ভ সাত বিলিয়ন থেকে কমে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর তা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং কোভিডের কারণে আমদানি কমে প্রবাসী আয়ে বড় উত্থান হলে ২০২১ সালের আগস্টে মোট রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।


এখনো সরকারি খাতের খাদ্য, জ্বালানি, রাসায়নিক সার আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ও চাঁদার অর্থও পরিশোধ হয় রিজার্ভের অর্থে।

 

রিজার্ভ বাড়ে–কমে কীভাবে


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ। অবশ্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন সময় রিজার্ভের অর্থ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। রিজার্ভ থেকে বেসরকারি খাতকে ঋণ দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরে যা আর কার্যকর হয়নি।


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের মূল উৎস প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের উদ্বৃত্ত ডলার ব্যাংকগুলো থেকে কিনে নেওয়া। এ ছাড়া বিদেশি ঋণ, বিনিয়োগ, অনুদান থেকে পাওয়া অর্থ সরাসরি যুক্ত হয় রিজার্ভে। পাশাপাশি জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর আয়ও সরাসরি রিজার্ভে যুক্ত হয়।


অন্যদিকে, চাহিদা বেড়ে গেলে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত প্রায় দুই বছরে এ কারণেই রিজার্ভ সবচেয়ে বেশি কমেছে। এখনো সরকারি খাতের খাদ্য, জ্বালানি, রাসায়নিক সার আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ও চাঁদার অর্থও পরিশোধ হয় রিজার্ভের অর্থে। এ ছাড়া প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর সদস্যদেশগুলোর আমদানি দায় পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলো নিয়মিত ভিত্তিতে এই দায়ের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করে, যা সংস্থাটি একবারে শোধ করে দেয়।


সংকট কতটা কাটল


দেড় বছর ধরে চলা ডলার–সংকট এখনো কাটেনি। আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে গত সেপ্টেম্বরে আমদানি খরচ কমে হয়েছে ৫২৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁরা এখনো ঋণপত্র খুলতে চাহিদামতো ডলার পাচ্ছেন না। আবার অনেক উদ্যোক্তাকে ঘোষিত দামের চেয়ে ১২-১৩ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। এদিকে গত অক্টোবরে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার। তবে গত মাসে প্রবাসী আয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, এসেছে ১৯৭ কোটি ডলার।


সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য ডলারের জোগান ও খরচের কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চলতি হিসাবে ৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, গত বছরের একই সময়ে যেখানে ঘাটতি ছিল ৩৬৭ কোটি ডলার। জানা গেছে, ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ করে দেওয়ায় ও আমদানি কমায় এই উন্নতি হয়েছে। তবে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে।


গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে। সম্প্রতি ডলারের দাম ৫০ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি। এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে সমর্থন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কিনতে ডলারের দাম এখন সর্বোচ্চ ১১০ টাকা, আর আমদানি দায় মেটাতে প্রতি ডলার ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। তবে প্রবাসী আয়ে সরকারের ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যাংকও একই পরিমাণ প্রণোদনা দিতে পারবে। ফলে প্রবাসী আয় পাঠালে ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন উপকারভোগীরা। তবে ব্যাংকগুলো প্রণোদনা ছাড়া ১২১ টাকার বেশি দামে প্রবাসী আয় কিনছে। এর চেয়ে বেশি দামে আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বছরে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের দায় ছিল ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এখন যা কমে হয়েছে ৬৯০ কোটি ডলার। পাশাপাশি চলতি হিসাবে ১০০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে। এখন ঋণপত্র খোলা হচ্ছে তাৎক্ষণিক ডলার পরিশোধের মাধ্যমে। ফলে ভবিষ্যৎ দায় তৈরি হচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদার চেয়ে জোগান এখন বেশি। ভবিষ্যতে আরও বিদেশি ঋণ আসবে, যাতে রিজার্ভ বাড়বে।

Is Musk growing distant from the Trump administration over tariffs?

         Tesla CEO Elon Musk   Elon Musk has made several posts on social media criticizing a top White House adviser for US President ...